বিস্ফোরণের তীব্রতায় নবির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল, ফলে এতদিন পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়েছে সবটা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 08:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) দু'দিন পরই নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ঘটনায় মৃত্যুই হয়েছে অন্যতম মূল অভিযুক্ত ড. উমর উন নবির। ওই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ (Suicide Blast) ঘটিয়েছিলেন তিনিই এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নবির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল, ফলে এতদিন পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় (DNA Test) ধরা পড়েছে সবটা।
গত সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লার (Red Fort) বাইরে ব্যস্ত রাস্তায় বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তেই সন্দেহ করা হয়েছিল, বিস্ফোরণ ঘটানো সাদা রঙের হুন্ডাই i20 গাড়িটি (i20 Car) চালাচ্ছিলেন ড. উমর। তদন্তকারীরা কাশ্মীরের পুলওয়ামায় (Jammu Kashmir Pulwama) তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশের সঙ্গে সেই ডিএনএ মিলে যায়।
সূত্র জানায়, উমর উন নবি ছিলেন পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত এক ‘লজিস্টিকস মডিউল’-এর সদস্য। ওই নেটওয়ার্কটি ফারিদাবাদ, লখনউ এবং দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে সক্রিয় ছিল। এতে ৯ থেকে ১০ জন সদস্য ছিল, যাঁদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন চিকিৎসক। তাঁরা নিজেদের পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে বিস্ফোরকের রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানায়, ২৯ অক্টোবর একটি সাদা i20 গাড়ি কিনেছিলেন উমর। ৯ নভেম্বর থেকে তাঁর খোঁজ মেলেনি। এর আগের দিনই ফারিদাবাদে (Faridabad) এক গুদাম থেকে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর থেকেই গা-ঢাকা দেন ওই চিকিৎসক। ফোন বন্ধ করে ফেলেন পাঁচটি সিম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসেও অনুপস্থিত ছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। উমর ও তাঁর সহকর্মী ড. মুজাম্মিল গনাই সম্প্রতি তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, যেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল JeM-এর বিদেশি হ্যান্ডলারদের। ওই সফরের পরেই ‘ডক্টর মডিউল’-এর সদস্যদের ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের ধারণা, দীপাবলির সময় ভিড়ভাট্টায় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা যায়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই মডিউল মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের দুটি গ্রুপের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি পরিচালনা করত পাকিস্তানের JeM হ্যান্ডলার উমর বিন খত্তাব।
এই ঘটনায় আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও অধ্যাপককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন ড. শাহিন শাহিদ, যিনি জইশ-ই-মহম্মদের নারী শাখা ‘জমাত-উল-মুমিনাত’-এর ভারতীয় ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ।
এছাড়াও দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে চলছে তল্লাশি। জামাত-ই-ইসলামির এক কর্মী মৌলভি ইরফানের গ্রেফতারের পর একাধিক বাড়িতে হানা দেয় নিরাপত্তাবাহিনী।
পুলওয়ামার কৈল গ্রামে উমরের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তিনি খুবই চুপচাপ, পড়াশোনায় ডুবে থাকা মানুষ ছিলেন। এক আত্মীয়ের কথায়, “বাইরে খুব একটা বেরোতেন না, কারও সঙ্গে মিশতেনও না।” কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন পরিবার। তিনি প্রায়ই ফারিদাবাদ ও দিল্লি যাতায়াত করতেন, বিশেষ করে রামলীলা ময়দান ও সুনেহরি মসজিদের কাছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের দিন দুপুর ৩টার দিকে উমর ওই মসজিদের কাছে গাড়ি পার্ক করেন এবং প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। সন্ধে ছ’টার পরই লালকেল্লার দিকে রওনা দেন, এবং কয়েক মিনিট পরই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
এই মুহূর্তে দিল্লি পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ এটিএস যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। ফারিদাবাদ মডিউলের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খোঁজে তৎপর গোয়েন্দারা।