তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দলের নেতাদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবৈধভাবে টার্গেট করার নির্দেশ দিচ্ছেন। ফাঁস হওয়া কথোপকথনে দেখা গেছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর গাড়ি তল্লাশি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন
শেষ আপডেট: 15 April 2026 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ফের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হলো সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এবার সরাসরি কমিশনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন (Derek O'Brien)। তাঁর দাবি, কমিশনের পর্যবেক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তৃণমূল নেতাদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে হেনস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬-এ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে তৃণমূল অভিযোগ করেছে, কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পুলিশের পর্যবেক্ষক এবং সিএপিএফ (CAPF) আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন। দলের দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং তাঁর স্ত্রীকে টার্গেট করার স্পষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে সেখানে।
তৃণমূলের চিঠিতে বেশ কিছু অভিযোগ করা হয়েছে। অভিষেকের স্ত্রীকে নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শাসকদলের। তৃণমূলের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দিনে-দুপুরে তাঁর গাড়ি তল্লাশি করার জন্য ফ্লাইং স্কোয়াডকে (FST) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির। ডেরেক ও'ব্রায়েনের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা বজায় না রেখে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছড়াও, শুধুমাত্র ব্যক্তি নয়, তৃণমূলের জনসংযোগ কর্মসূচি এবং প্রচারের কাজেও বাধা দেওয়ার জন্য আধিকারিকদের উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রকাশিত ওই স্ক্রিনশটে দেখা যায়, কমিশনের তরফে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, অভিষেকের স্ত্রীর মাধ্যমে নির্বাচনের টাকা পাঠানো হতে পারে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদে অভিষেক, তাঁর স্ত্রী এবং তৃণমূলের সমস্ত মন্ত্রী ও নেতার গাড়িতে কড়া তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে যে সমস্ত আধিকারিকরা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অবিলম্বে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। তৃণমূলের কথায়, "এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে জনসমক্ষে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।"
উল্লেখ্য, চিঠির সঙ্গে ওই হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের ছবিও জমা দিয়েছে তৃণমূল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নদীয়া, বসিরহাট, ডায়মন্ড হারবার-সহ একাধিক ব্লকের মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঝাড়খণ্ড, বিহার ও নেপাল সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকার দোহাই দিয়ে কড়া চেকিংয়ের নির্দেশও রয়েছে ওই চ্যাটে।
এখন দেখার, তৃণমূলের এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পাল্টা সাফাই দেয়।