সিসিটিভি ফুটেজটি ট্রাফিক ক্যামেরা থেকে সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। দেখা যাচ্ছে, ব্যস্ত রাস্তায় ই-রিকশা, অটো, প্রাইভেট গাড়ির মাঝে হঠাৎ ওই সাদা গাড়িটি আগুনে ফেটে পড়ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort) সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দু'দিন পর প্রকাশ্যে এল নতুন সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage)। সেখানে দেখা গেছে, সাদা রঙের একটি হুন্ডাই আই-২০ গাড়ি (Hyundai i20 Car) ট্রাফিকের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে (Car Blast), মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে ছারখার হয়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধে ৬টা ৫২ মিনিটে, লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে।
সিসিটিভি ফুটেজটি (CCTV Footage) ট্রাফিক ক্যামেরা থেকে সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দেখা যাচ্ছে, ব্যস্ত রাস্তায় ই-রিকশা, অটো, প্রাইভেট গাড়ির মাঝে হঠাৎ ওই সাদা গাড়িটি আগুনে ফেটে পড়ছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের একাধিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনআইএ ইতিমধ্যেই তদন্তভার হাতে নিয়েছে। এই ঘটনাকে 'গুরুতর জঙ্গি হামলা' (Terror Attack) হিসেবেই অভিহিত করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ডাক্তার উমর নবি, বয়স ৩২ বছর, যিনি পেশায় চিকিৎসক হলেও পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ। পুলিশের অনুমান, বিস্ফোরণের সময় গাড়ির মধ্যেই ছিলেন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র অনুযায়ী, উমর গত ২৯ অক্টোবর ফরিদাবাদের (Faridabad) একটি ডিলারের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছিলেন। সেই ডিলারের নাম সোনু। গাড়ি কেনার পরই তাঁকে দেখা যায় কাছের একটি PUC বুথে, যেখানে গাড়ির দূষণ সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়। তার পর গাড়িটি নিয়ে যান আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে, যেখানে তাঁর সহকর্মী ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল-এর গাড়ির পাশে সেটি পার্ক করা হয়। ওই মুজাম্মিলের ঘর থেকেই পরে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়।
বিস্ফোরণের দিন বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটের একটি সিসিটিভিতে দেখা যায় গাড়িটি চাঁদনি চক এলাকার সোনেহরি মসজিদের পার্কিংয়ে ঢুকছে। সেখানে গাড়িটি তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু চালককে বের হতে দেখা যায়নি। সন্ধে ৬টা ৩০ মিনিটে গাড়িটি পার্কিং থেকে বেরিয়ে নেতাজি সুভাষ মার্গ ধরে রওনা দেয়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
তদন্তে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে এক ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর চিত্র — যেখানে একাধিক উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে জম্মু-কাশ্মীরের প্রশিক্ষিত জঙ্গি বলে জানিয়েছে এনআইএ। এই মডিউলের মূলচক্রী বলে মনে করা হচ্ছে ডাঃ উমর নবিকে। তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ আদিল আহমদ রাঠার ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, রাইফেল এবং গোলাবারুদ।
আরও এক অভিযুক্ত, লখনউ-এর চিকিৎসক ডাঃ শাহিন সাইদ, মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়েছেন। এনআইএ-র অভিযোগ, তিনি ভারতে জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা সংগঠন (Jamaat-ul-Mominat) গঠন ও সম্প্রসারণের কাজ করছিলেন গোপনে।