দিল্লি বিস্ফোরণের আগে হরিয়ানার নুহে ভাড়া বাড়িতে ঘাঁটি গেড়েছিল উমর মহম্মদ। তার সঙ্গে কে ছিল?

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণের আগে নুহে ঘাঁটি গেড়েছিল আত্মঘাতী জঙ্গি উমর মহম্মদ, তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগ থাকা এই জঙ্গিই আই-২০ গাড়ি চালাচ্ছিল ওই দিন। তার ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দারা। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন, জখন একাধিক।
গত পাঁচ দিন ধরে দিল্লি পুলিশ তন্নতন্ন করে খুঁজছে নুহের হিদায়ত কলোনি-সহ একাধিক এলাকায়। শনিবার সেখানেই মোতায়েন ছিল তদন্তকারী দল। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের ঠিক আগে প্রায় ১০ দিন ওই কলোনির ভাড়া বাড়িতে থাকত উমর। ১০ নভেম্বর বিস্ফোরণের দিন আই-২০ গাড়ি নিয়ে সেই ভাড়া বাড়ি থেকেই বেরোয় সে।
নুহর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে গাড়িটি ওই কলোনিতে ঢুকছে। তবে কবে বেরিয়েছে, কোন পথে গেছে, তা এখনও জানা যায়নি।
দিল্লি-আলওয়ার রোডের যে বাড়িতে ছিল উমর, তা সোয়েব নামের এক যুবকের বৌদির। সোয়েব আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিশিয়ান, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই কাজ করত বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহভাজনরা। সোয়েবই নাকি থাকার ব্যবস্থা করেছিল। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে। এলাকার কাউকে কিছু টের পেতে দেয়নি উমরের উপস্থিতি, জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
সিসিটিভির আরও দুটি ফুটেজে নুহে উমরের উপস্থিতি স্পষ্ট, একটিতে তাকে ফিরোজপুর ঝিরকার টোল প্লাজা পার হতে দেখা গেছে, আরেকটিতে বিওয়ান–পাহাড়ি রোডের এটিএমে টাকা তুলতে চেষ্টা করছে। সূত্রের দাবি, নুহের মেওয়াত অঞ্চলে সে গিয়েছিল এবং সেখানে সম্ভবত নিজের কলেজের কিছু এমবিবিএস ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগে আসে।
উমরের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহকর্মী, শাহিন সইদ, মুজাম্মিল শাকিল এবং আদিল রাঠার, ইতিমধ্যেই গ্রেফতার। তদন্ত চলছে এনসিআরজুড়ে সিরিয়াল ব্লাস্ট করার কোনও ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য।
তদন্তকারীদের হাতে মিলেছে প্রায় ৩,০০০ কেজি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম, যা ওই সন্দেহভাজনদের ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে। জইশের মডিউল কত বড় নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তা বোঝাই যাচ্ছে। শাহিন সইদের গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি রাইফেল ও গুলি। সাম্প্রতিক পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন দেখে পুলিশের সন্দেহ, দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল সে।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে জইশ-যোগ, আত্মঘাতী হামলার ছক, আর এনসিআরজুড়ে সম্ভাব্য আরও বড় নাশকতার ইঙ্গিত।