দিল্লি বিস্ফোরণে উমর কি ব্যবহার করেছিল ‘মাদার অফ স্যাটান’ নামের ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক? বেআইনি বোমা চক্রের ও জঙ্গিদের পছন্দের এই মারাত্মক বিস্ফোরকের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।

লালকেল্লা চত্বরের ছবি (ফাইল)
শেষ আপডেট: 16 November 2025 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক, এমনই সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁদের অনুমান, ব্যবহৃত হয়েছে ট্রাই অ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড বা টিএটিপি (TATP), যা ‘মাদার অফ স্যাটান’ নামে কুখ্যাত। তাপ পড়লে ডেটোনেটর ছাড়াই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে এই রাসায়নিক।
১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে একটি i20 গাড়িতে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৩ জনের, জখম হন প্রায় ২৪-২৫ জন। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর মহম্মদ, পুলওয়ামার বাসিন্দা এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন ঘনিষ্ঠ। প্রথমে পুলিশ মনে করেছিল, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক ফরেন্সিক লক্ষণ দেখে এখন টিএটিপি-তেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, টিএটিপি-র সামান্য ঘর্ষণ, চাপ, তাপমাত্রার বদল, যেকোনও কিছুতেই ট্রাইমার অস্থিতিশীল হয়ে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো স্থিতিশীল নয় এটি, সেটি বিস্ফোরিত করতে আলাদা ডেটোনেটর লাগে, টিএটিপি-র লাগে না। তাই বিশ্বজুড়ে বেআইনি বোমা-তৈরি চক্রের কাছে এটি অত্যন্ত ‘পছন্দের’।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ২০১৫-র প্যারিস হামলা, ২০১৭-র ম্যানচেস্টার বিস্ফোরণ, বার্সেলোনা ও ব্রাসেলস হামলার ঘটনাতেও মেলে এই বিস্ফোরকের হদিশ,।
দিল্লির বিস্ফোরণে কি টিএটিপি?
ঘটনাস্থলের ক্ষত দেখে ফরেন্সিক টিমের ধারণা, এই বিস্ফোরণ টিএটিপি-র ধাঁচের। গাড়ির ভেতর অত্যন্ত শক্তিশালী শকওয়েভ তৈরি হয়েছিল। রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা চলছে। সন্দেহ, তাপমাত্রার ওঠানামায় বা পরিবহনের সময় রাসায়নিক অস্থিতিশীল হয়ে গাড়ির মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে।
তদন্তকারীদের একাংশ বলছেন, উমর আগে থেকেই জানত এই রাসায়নিক কতটা অস্থির। তা সত্ত্বেও সে ওই গাড়ি নিয়ে ঢুকেছিল চাঁদনি চকের পাশের সেই জনবহুল এলাকায়—যা পুরনো দিল্লির অন্যতম ভিড়ে ঠাসা এলাকা বলে পরিচিত।
কোথা থেকে এল বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক?
টিএটিপি তৈরি করতে লাগে একাধিক উপাদান। সেগুলো উমর কোথা থেকে সংগ্রহ করল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বড় কোনও মডিউল কি তাকে সাহায্য করছিল? রাসায়নিক মেশানোর কাজে আরও কেউ কি যুক্ত ছিল? উমরের ডিজিটাল ট্রেইল, ফোন রেকর্ড, চলাচলের নথি সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণের আগে উমর দীর্ঘ সময় ধরে ভিড়ভাট্টার পুরনো দিল্লিতে ঘোরাফেরা করেছিল, এমনটাই উঠে এসেছে ঘটনার পুনর্গঠনে। যদি সত্যিই টিএটিপি থাকে, তা হলে প্রশ্ন থেকে যাবে, গাড়ির ভেতরে এতক্ষণ এটি কীভাবে স্থিতিশীল রইল?
ধৃত তিন সহকর্মী, উদ্ধার ৩,০০০ কেজি বিস্ফোরক
উমরের তিন সহকর্মী, শাহিন সইদ, মুজাম্মিল শাকিল এবং আদিল রাঠার- তিন জনেই ফারিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার। তাঁদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সন্দেহ, রাজধানী ও এনসিআরজুড়ে সিরিয়াল ব্লাস্ট ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল এদের।
তল্লাশিতে অভিযুক্তদের ভাড়া নেওয়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩,০০০ কেজি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সামগ্রী। শাহিন সইদের গাড়ি থেকে মিলেছে একটি রাইফেল ও গুলিও। তার পাসপোর্ট যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দেখে পুলিশ মনে করছে, দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যায়।