মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) এবং পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik) অভিযোগ করেন, মোদী-শাহের অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন বাংলার বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে।

পার্থ ভৌমিক ও ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 24 March 2026 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে নির্বাচন কমিশন ও দিল্লির শাসকদলের ‘যোগসাজশ’ নিয়ে এবার আক্রমণে নামল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) এবং পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik) অভিযোগ করেন, মোদী-শাহের অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন বাংলার বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রাত্য বসু দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার জয়ন্ত কান্তকে মালদহের অত্যন্ত সংবেদনশীল চারটি এলাকায় (মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগর, সুজাপুর ও মাণিকচক) পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একটি ছবি দেখিয়ে ব্রাত্যর দাবি, বর্তমানে বিহারে কর্মরত এই আধিকারিকের স্ত্রী বিজেপির একজন সক্রিয় নেত্রী। ছবিতে তাঁকে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিতে দেখা গিয়েছে। ব্রাত্যর প্রশ্ন, “শোনা যাচ্ছে ২০২৯ সালে উনি বিহার থেকে বিজেপির টিকিটে লড়বেন। এমন এক জন আধিকারিকের স্ত্রীকে যদি সরাসরি বিজেপির কর্মসূচিতে দেখা যায়, তবে তিনি বাংলায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন কোন ভরসায়?”
কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন ব্রাত্য। তিনি বলেন, “১৯৩৯ সালে হিটলার যেভাবে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতন ল্যান্ড দখল করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন, আজ বাংলায় সেই একই পথ বেছে নিয়েছেন অমিত শাহরা। আর মিথ্যে তথ্য ছড়াতে সাহায্য নিচ্ছেন আধুনিক গোয়েবলসদের।” নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে মন্ত্রী বলেন, “উনি বিহারে নীতীশ কুমারকে রাজনৈতিকভাবে ভ্যানিশ করে দিয়েছেন। এখন সেই একই মডেলে বাংলায় কলকাঠি নাড়ছেন।”
প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, কোনও সঙ্গত কারণ ছাড়াই রাতারাতি ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলে দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্রাত্য বলেন, “উনি যা করছেন, তার সবটাই মহাকালের খাতায় লেখা হচ্ছে। সমকাল কিন্তু ইতিহাস নয়। সেই হিসাব একদিন ওনাকে চোকাতে হবে।” ৪ মে-র পর গোটা দেশ এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করবে বলেও এদিন দাবি করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।