তাঁর মতে, "অটোমেশনের ফলে আজ অনেক কারখানায় শ্রমিকের প্রয়োজনই পড়ছে না। লেবার ছাড়াই চলছে কাজ। ফলে পুজোর আনন্দও কমছে।"

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 16 September 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকর্মা পুজোর (Bishwakarma Puja) প্রেক্ষাপটে রাজ্যের শিল্প এবং শ্রমিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Speaker Biman Banerjee)।
তিনি স্বীকার করলেন, আগের মতো উন্মাদনা আজ আর বিশ্বকর্মা পুজোয় দেখা যায় না। তাঁর মতে, "অটোমেশনের ফলে আজ অনেক কারখানায় শ্রমিকের প্রয়োজনই পড়ছে না। লেবার ছাড়াই চলছে কাজ। ফলে পুজোর আনন্দও কমছে।"
তবে তাঁর এই পর্যবেক্ষণকেই হাতিয়ার করে ফের উঠেছে পুরনো বিতর্ক—সিঙ্গুরে টাটা-ন্যানো প্রকল্প বন্ধ হওয়া (Singur controversy, Tata Nano)। বিরোধীদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূলের আন্দোলনের জেরে শিল্প-বিপ্লবের সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে স্পিকারের সাফ জবাব, “সিঙ্গুর একমাত্র ইন্ডাস্ট্রি নয়। ভাবার কোনো কারণ নেই যে সিঙ্গুর হলেই বাংলা শিল্পে বিপ্লব ঘটত। জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল জোর করে, কৃষকরাই আপত্তি জানিয়েছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “যে ন্যানো গাড়িকে ঘিরে এত আলোচনা, সেটাই তো আজ বাজারে নেই।”
বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে যখন শ্রমজীবী মানুষদের সম্মান জানানোর রেওয়াজ, তখন রাজ্যের বাইরে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 'পরিযায়ী' শব্দের বিরোধিতা করে স্পিকার বলেন, “আমরা সবাই ভারতবাসী। অন্য রাজ্যে গেলেই কেউ পরিযায়ী হয়ে যায় কী করে? এই শব্দটাই আমার আপত্তির।”
স্পিকারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে বাস্তববোধের পরিচায়ক বলছেন, কেউ আবার শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর প্রেক্ষিতে এই বিতর্ক যে রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই যায়।