প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু মাছ চাষকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করবে না, রাজ্যের রাজস্বেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের মাছ চাষের ক্ষেত্র (Fish Farming) এবার পাচ্ছে ডিজিটাল শক্তি (E-Auction)। ৫ একরের বেশি সরকারি বা খাস জলাভূমিতে (Large five-acre wetland) মাছ চাষের জন্য রাজ্য সরকার চালু করতে চলেছে অনলাইন নিলামের ব্যবস্থা। আগের মতো কেবল দরপত্রের উপর নির্ভর না করে এবার ই-অকশানের মাধ্যমে মাছ চাষের সুযোগ মিলবে, যা রাজ্যের মৎস্য উৎপাদন ও রাজস্ব দু’টোই বাড়াতে সাহায্য করবে।
১৯৯১ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি ও ভূমি সংস্কার ম্যানুয়াল সংশোধনের ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে বড় জলাশয়গুলোতে মৎস্য চাষের নিয়ন্ত্রণ আরও আধুনিক পদ্ধতিতে করা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত ‘কমিটি অব মিনিস্টার্স’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এবার থেকে ৫ একরের বেশি জলাভূমি লিজ দেওয়ার অঙ্ক বছরে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে জেলা স্তরের কমিটিই দরপত্র বা অকশান পরিচালনা করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রথমবার দরপত্রে মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত শিল্পোদগীরাও অংশ নিতে পারবেন। এলাকা ভিত্তিক ফিশারম্যান কোঅপারেটিভ, ফিস প্রোডাকশন গ্রুপ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁদের জন্য বিশেষ ছাড়ও রাখা হয়েছে।
জেলাশাসক নেতৃত্বাধীন কমিটিতে এবার থেকে ক্ষুদ্র সেজ দফতরের একজন আধিকারিকও যুক্ত থাকবেন, কারণ অনেক খালও মৎস্য চাষের জন্য ব্যবহার হয়। অনলাইনে অকশানের জন্য মৎস্য দফতরের হাতে পৃথক পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু মাছ চাষকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করবে না, রাজ্যের রাজস্বেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজ্যের বড় জলাভূমিতে মৎস্য চাষের এই ডিজিটাল যুগ নিশ্চিত করবে আরও স্বনির্ভর চাষি, বাড়বে উৎপাদন, আর রাজ্যের জলাশয় ব্যবস্থাপনাও হবে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ।