চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘‘এমন একজন প্রধানমন্ত্রী, যিনি শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর ভাষণ দেন। কাজের কাজ কিছুই করেন না। উল্টে বাংলা থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে বাংলাকেই বঞ্চনা করেন।’

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সিঙ্গুর সভার আগে টাটা-প্রসঙ্গ (Tata's industry) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তাপমাত্রা বাড়ল। আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে (Singur) প্রধানমন্ত্রীর সভা। তার আগেই সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কারণেই টাটারা বাংলা ছেড়েছিল। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে ফের টাটারা ফিরবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সুকান্তর এই বক্তব্যের কড়া জবাব আসে তৃণমূলের তরফে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattachariya) সোজাসাপ্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘টাটার শিল্প তো সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটে (Gujarat) গিয়েছিল। সেখানে কেন হল না? তার জবাব দিন সুকান্ত মজুমদার।’’
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে শিল্প হচ্ছে না বলে বিজেপি নেতারা যাঁরা বাংলায় লগ্নি করছেন, তাঁদের অপমান করছেন। হুঁশিয়ারির সুরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘এর জবাব বাংলার মানুষই দেবে।"
প্রসঙ্গত, টাটা ন্যানো প্রকল্প বাতিল হওয়ার পর এই প্রথম সিঙ্গুরে সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। সিংহরভেরি মৌজায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে জমিতে হবে ওই সভা। সিঙ্গুরে শিল্প না হওয়ার দায় সরাসরি তৃণমূলের ঘাড়ে চাপিয়ে সুকান্ত বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার এলে টাটারা ফিরবে। আমরা জানি কী ভাবে শিল্প করতে হয়। উত্তরপ্রদেশে ডিফেন্স করিডোর হয়েছে, তামিলনাড়ুতেও হয়েছে।’’
এই প্রসঙ্গে সুকান্তকে সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস মনে করিয়ে দেন চন্দ্রিমা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সিঙ্গুরে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়েছিলেন। তাপসী মালিক যখন জ্বলছিলেন, তখন সুকান্ত মজুমদারদের দেখা যায়নি। আন্দোলন যে ন্যায্য ছিল এবং জমি অধিগ্রহণ অবৈধ ছিল, তা খোদ সুপ্রিম কোর্টই স্বীকৃতি দিয়েছে।’’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কৃষকেরা জমি ফেরত পেলেও শিল্প বা চাষ, কোনোটাই সে ভাবে গড়ে ওঠেনি, এই প্রশ্নে সুকান্তের কটাক্ষ, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্লায় পড়লে নাকও যাবে, নরুণও যাবে। তিনি শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবেন।’’ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সভায় সকলকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদীকে ‘ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমনকি তৃণমূল কর্মীদেরও সভায় আসার ডাক দেন সুকান্ত।
এর পাল্টা জবাবে চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘‘এমন একজন প্রধানমন্ত্রী, যিনি শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর ভাষণ দেন। কাজের কাজ কিছুই করেন না। উল্টে বাংলা থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে বাংলাকেই বঞ্চনা করেন।’’ তাঁর দাবি, আসন্ন বিধানসভা ভোটেই বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।
সব মিলিয়ে মোদীর সিঙ্গুর সভার আগেই টাটা-ইস্যু ঘিরে বিজেপি–তৃণমূল সংঘাত তীব্রতর হল।