পার্থের রূপক, ‘‘রাবণও পুজো করেছে, রামও পুজো করেছে। দেবী দুর্গা রামের পুজো গ্রহণ করেছেন, রাবণ বধ হয়েছে। কে রাম আর কে রাবণ, সেটা বাংলার মানুষ জানেন।’’
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র (Logical Discrepancy) অজুহাতে বৈধ মহিলা ভোটারদের নাম কাটার পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে, এই অভিযোগে ফের নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল তৃণমূল (Tmc)। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সাংসদ পার্থ ভৌমিকের দাবি, এই চক্রান্ত শুধু এক জায়গায় নয়, রাজ্যের একাধিক জেলায় হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বাঁকুড়ার (Bankura case) খাতড়া থেকে একটি রহস্যজনক গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার এসআইআর-এর ফর্ম ৭। অভিযোগ, প্রতিটি ফর্ম আগেই পূরণ করা ছিল। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই ফর্মগুলি কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারই সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
বুধবার সেই প্রসঙ্গ টেনে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শুধু বাঁকুড়া নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও তমলুক, মালদহের ইংরেজবাজার, হুগলির চুঁচুড়া ও চন্দননগর, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর থেকে কলকাতার জোড়াসাঁকো— সর্বত্র একই কায়দায় নাম কাটার অপচেষ্টা চলছে। আর বিশেষ ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে মহিলাদের।’’
চন্দ্রিমার প্রশ্ন, ‘‘এই ফর্মগুলো কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? স্পষ্ট, নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত। এটা কয়েকজন কর্মীর কাজ নয়, এর পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বৈধ ভোটারকে অবৈধ বানানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।’’
আরও একধাপ এগিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন পার্থ ভৌমিক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘টি এন সেশনের সময় যে গরিমা ছিল, তা আজকের নির্বাচন কমিশনের নেই। সেই গরিমাকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। স্বয়ংশাসিত সংস্থাকে বিজেপির দলদাসে পরিণত করা হয়েছে।’’
পার্থের দাবি, বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হার অন্য রাজ্যের তুলনায় কম দেখে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র মতো নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। ‘‘শুধু বাংলার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কেন? কাগজ জমা দিলেও তার কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। একজন বিএলও নাকি ১০টি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারে। তাহলে এই হাজার হাজার নাম এল কোথা থেকে?’’— প্রশ্ন তাঁর।
তৃণমূল সাংসদের আরও অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হচ্ছে, তাঁদের অবৈধ প্রমাণ করার দায় আপত্তিকারীরই। কিন্তু এখানে দল বেঁধে নাম জমা দিয়ে ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পার্থ বলেন, ‘‘হিটলারি কায়দায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা যখন দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন, তখন কমিশন যেন সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। কিন্তু এটা বাংলা। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। এখানে এই অপচেষ্টা আটকাবই।’’
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কমিশন–বিজেপি ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানোরও চেষ্টা করেছে। ‘‘এখন তো ইসি হোয়াটসঅ্যাপে চলছে,’’ কটাক্ষ তাঁর।
মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও ব্যঙ্গ করেন পার্থ। বলেন, ‘‘১০টার বেশি বাড়িতে যেতে পারেন না, কারণ ঠান্ডা ঘরে থাকেন, হাঁটতেই পারেন না!’’
আগামী ভোটে এই ‘চক্রান্তের’ জবাব মানুষই দেবে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। পার্থের রূপক, ‘‘রাবণও পুজো করেছে, রামও পুজো করেছে। দেবী দুর্গা রামের পুজো গ্রহণ করেছেন, রাবণ বধ হয়েছে। কে রাম আর কে রাবণ, সেটা বাংলার মানুষ জানেন।’’