পুলিশ জানিয়েছে প্রথমে কারা লোন নেবে তাদের একটি দল গঠন করা হত। এরপর তাদের সাথে রফা করতো এক লোন এজেন্ট ও ব্যাঙ্কের গোল্ড স্মিথ।

শেষ আপডেট: 20 June 2025 12:27
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: প্রতারণার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি হত সোনার গয়না। সেই গয়না বন্ধক দিয়ে কোটি কোটি টাকার গোল্ড লোন জালিয়াতি চলছিল! পর্দা ফাঁস করল তারকেশ্বর থানার পুলিশ। গোল্ড লোন জালিয়াতির সাথে যুক্ত চার প্রতারককে গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ২০২৩ সালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তারকেশ্বর শাখা থেকে তারকেশ্বর থানায় প্রথম একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় যে নকল সোনা ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লোন তোলেন একাধিক ব্যক্তি। আরও অভিযোগ ওই ব্যাঙ্কের শাখায় সোনা যিনি পরীক্ষা করেন ও এক লোন এজেন্টের কারসাজিতে নকল সোনা বন্ধক রেখে লোন করানো হত। এরপর আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকে একই অভিযোগ জমা পরে থানায়। মোট চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া লোনের পরিমান তিন কোটি টাকার উপর। মোট পাঁচটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়।
তদন্তে নেমে একের পর এক জট খুলতে শুরু করে তারকেশ্বর থানার পুলিশ। তারপরেই লোনপ্রাপকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নকল সোনা দিয়ে ঋণ নেওয়ার রহস্য ভেদ করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে প্রথমে কারা লোন নেবে তাদের একটি দল গঠন করা হত। এরপর তাদের সাথে রফা করতো এক লোন এজেন্ট ও ব্যাঙ্কের গোল্ড স্মিথ। লোন এজেন্টের কাজ ছিল সোনার গহনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার আবেদন করা, গোল্ড স্মিথের কাজ ছিল নকল সোনা বা কম সোনাকে বেশি সোনা হিসাবে সার্টিফিকেট দেওয়া।এরপর লোন মঞ্জুর হলেই নিজেদের মধ্যে হত ভাগ বাঁটোয়ারা।
তারকেশ্বরের একাধিক ব্যাঙ্কের শাখায় এতদিন এই ভাবেই চলছিল জালিয়াতি। অবশেষে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ধর্মরাজ মালিক, সঞ্জয় সাউ, সৌম্যদীপ্ত লোহার ও শুভঙ্কর পাত্র। এদের বাড়ি তারকেশ্বর থানা এলাকায়। লোন নেওয়ার পর গয়না ছাড়িয়ে নেওয়া বা ইএমআই দেওয়া কোনওটাই করত না প্রতারকরা। এতেই সন্দেহ হয় ব্যাঙ্কের।
পুলিশি হেফাজত চেয়ে শুক্রবার ধৃতদের চন্দননগর মহকুমা আদালতে পাঠায় পুলিশ। গোল্ড লোন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহ শুধু মাত্র লোন নেওয়ার জন্য গহনা তৈরি করা হয়। বিশেষ ধরনের এই গয়নার মধ্যে বেশির ভাগই বালা বা চুরি। যার ভিতরে পাতলা পাত ঢুকিয়ে উপরে সোনার আস্তরণ দিয়ে দেওয়া হত।
একদিকে নকল সোনা কোথায় তৈরি হতো তা যেমন তদন্ত করছে পুলিশ। অন্যদিকে গোল্ড লোন জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলির কোনও কর্মী জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।