রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও তোপ দেগেছেন শুভেন্দু। ‘এসআইআর’ ইস্যুতে বর্তমান ও প্রাক্তন দুই মুখ্যসচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত কোনও ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে যাওয়ার কথা নয়; সেই প্রক্রিয়ায় মুখ্যসচিবের নজরদারি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাংলায় সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 16 February 2026 20:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে (Bangladesh Elections 2026) ঘিরে রাজনৈতিক তরজা থামেনি। তার রেশ টেনেই এ বার বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং সেই দলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) একযোগে নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সীমান্ত রাজনীতির প্রসঙ্গ, ‘জামাত’ (Jamaat) যোগের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত।
শুভেন্দুর দাবি, “এপারের জামাত আর ওপারের জামাত - দু’পক্ষ মিলে এখন একাকার।” তাঁর অভিযোগ, কাঁটাতারের বেড়া সংক্রান্ত জমি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত রাজনীতিতে প্রভাব পড়েছে। বিরোধী দলনেতার কথায়, এপারের শক্তি ওপারের সমর্থন পেয়ে জয়ের মুখ দেখেছে। তিনি সরাসরি তৃণমূল ও হুমায়ুন কবীরের নাম উল্লেখ করে বলেন, আগামী এপ্রিলের নির্বাচনে ওপারের শক্তি বাংলায় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সাহায্য করবে - এমন অবস্থান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
পেট্রোপোল সীমান্তের (Petrapole Border) প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই অঞ্চল ঘিরে প্রায় ৯০ শতাংশ আসনে ‘জামাত’-ঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এরা নারীর অধিকার স্বীকার করে না, মেয়েদের শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের পক্ষে নয়। এই পরিস্থিতিকে তিনি 'ভারতীয়দের, বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের জন্য উদ্বেগজনক' বলে অভিহিত করেন।
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও তোপ দেগেছেন শুভেন্দু। ‘এসআইআর’ (West Bengal SIR) ইস্যুতে বর্তমান ও প্রাক্তন দুই মুখ্যসচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত কোনও ফাইল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে যাওয়ার কথা নয়; সেই প্রক্রিয়ায় মুখ্যসচিবের নজরদারি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাংলায় সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।
তিনি নাম উল্লেখ করে বলেন, মনোজ পন্থ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakravorty) - নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত নথিপত্র সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এমন নজির নেই।
আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাসপেন্ড হওয়া এইআরও-রা কমিশনের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট এবং প্যান কার্ড গ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, গোটা প্রক্রিয়াই হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক চাপে। এমনকি জেলা প্রশাসন এবং তৃণমূলের নির্দেশেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মুখ্যসচিবকে সামনে রেখে গোটা ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভোটের মুখে এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই যায়।