এবারের ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যের ২৯৪টি প্রশাসনিক কেন্দ্রে টেবিল-চেয়ার পেতে অফলাইনে ফর্ম বিলির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাঁর প্রশ্ন, ডিজিটাল যুগে কেন লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম তুলতে হবে? ‘দুয়ারে সরকার’ বা ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’-এর মতো কর্মসূচিকে তিনি রাজনৈতিক নাটক বলেই কটাক্ষ করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 14 February 2026 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে ‘যুব সাথী’ (Yuva Sathi Scheme) প্রকল্পের ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া। তার আগেই রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শাসক দলকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি দাবি করলেন, ‘‘ফর্ম তো সবাই ভরবেন, কিন্তু চাকরি দেবে বিজেপি (BJP)।’’
শুভেন্দুর বক্তব্য, রাজ্যে কর্মসংস্থানের সংকট চরমে। তাঁর অভিযোগ, ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকারের (TMC Govt) আমলে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি বেকার তৈরি হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে একের পর এক প্রকল্পের নামে যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের সূচনার সময় বেকারদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। ১৭ লক্ষ যুবক-যুবতী আবেদন করেছিলেন, কিন্তু অধিকাংশই কোনও সুফল পাননি বলে তাঁর অভিযোগ।
এবারের ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যের ২৯৪টি প্রশাসনিক কেন্দ্রে টেবিল-চেয়ার পেতে অফলাইনে ফর্ম বিলির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাঁর প্রশ্ন, ডিজিটাল যুগে কেন লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম তুলতে হবে? ‘দুয়ারে সরকার’ বা ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’-এর মতো কর্মসূচিকে তিনি রাজনৈতিক নাটক বলেই কটাক্ষ করেছেন।
শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, অন্তর্বর্তী বাজেটে (State Budget Vote On Account) ভোটকে সামনে রেখে কর্মসংস্থানের মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার সরাসরি নিয়োগ শুরু করলে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের মতো আরও অনেকে সুযোগ নেবে। তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট - নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আস্থা নেই।
রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ সরকারি পদ অবলুপ্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পদ ফাঁকা থাকলেও নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে চাকরির অধ্যায় কার্যত ‘বন্ধ’ হয়ে গিয়েছে। অতীতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র সরকার সম্প্রতি যুব সমাজের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। তারই অংশ হিসেবে শুরু হচ্ছে ‘যুব সাথী’। তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে জনমত প্রভাবিত করার কৌশল।
শুভেন্দু অধিকারীর আত্মবিশ্বাস, এপ্রিলের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটবে এবং বিজেপি সরকার গঠন করবে। তাঁর কথায়, ‘‘ফর্ম ভরুন, চাকরি চাইলে বিজেপিকেই সুযোগ দিতে হবে।’’
যুব সাথী ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট। একদিকে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলছে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। ভোটের আগে কর্মসংস্থান যে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।