অসমের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সে রাজ্যে সরকার মাদ্রাসা বন্ধ করে পড়ুয়াদের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ বাংলায় সেই পথে হাঁটা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে মরিয়া, যা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নিমিত্রা পাল
শেষ আপডেট: 6 February 2026 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বাজেট অধিবেশনের (State Budget Session) দ্বিতীয় দিনেই মাদ্রাসা শিক্ষা (Madrasa) ও সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভার (Bidhansabha) পরিবেশ। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত রাজনৈতিক ও আবেগী সংঘাতে রূপ নেয়। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে অগ্নিমিত্রা যে মন্তব্য করেন, তা ঘিরেই শোরগোল ছড়ায় অধিবেশন কক্ষে।
বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, চলতি বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষার খাতে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এই বরাদ্দ আদৌ শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয় হবে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, এই অর্থের আড়ালে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্যে সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের তরফে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর অভিযোগ, একটি গোটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ফিরহাদ বলেন, সংখ্যালঘুরা কখনওই ক্রিমিনাল নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমান সমাজের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতারা পরিকল্পিত ভাবে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। “আমরা ক্রিমিনাল নই” - এই বাক্য তিনি বারবার উচ্চারণ করেন, যা অধিবেশন কক্ষের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজের দলের বিধায়কের পাশে দাঁড়ান। তিনি স্পষ্ট জানান, মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায় নয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, চলতি বাজেটে মাদ্রাসা শিক্ষায় ৫,৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে শিল্প খাতে বরাদ্দ ১,৪০০ কোটি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মাত্র ২১৭ কোটি টাকা। তাঁর দাবি, এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরেও মাদ্রাসা থেকে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবী তৈরি হচ্ছে না - এই প্রশ্ন তোলাই অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
অসমের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সে রাজ্যে সরকার মাদ্রাসা বন্ধ করে পড়ুয়াদের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ বাংলায় সেই পথে হাঁটা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে মরিয়া, যা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক।
অন্যদিকে, ফিরহাদ হাকিম বিজেপির এই অবস্থানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। মুসলমানদের অপরাধী হিসেবে দাগানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।” একই সঙ্গে ‘সারে যাঁহা সে আচ্ছা’ সুর তুলে তিনি বলেন, ভারত কোনও একটি সম্প্রদায়ের নয় - এই দেশ সকলের।