শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, বাজেটে যেসব বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হবে না। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কিছু প্রকল্প কার্যকর করার কথা বলা হলেও, সেগুলি আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর গভীর সংশয় রয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 6 February 2026 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বাজেট অধিবেশনে (State Budget Session 2026) সরকারকে একের পর এক তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভোট অন অ্যাকাউন্টস (Vote on Account) আর পূর্ণাঙ্গ বাজেট এক বিষয় নয়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার কার্যত একটি নির্বাচনী ইস্তেহারকে বাজেটের মোড়কে পেশ করেছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এইসব ঘোষণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, বাজেটে (State Budget) যেসব বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হবে না। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কিছু প্রকল্প কার্যকর করার কথা বলা হলেও, সেগুলি আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর গভীর সংশয় রয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে এই বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাবের সঙ্গে তাঁরা একমত নন বলেও তিনি জানান।
কৃষকদের জন্য বাজেটে উল্লেখযোগ্য কিছু নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বক্তব্যে তিনি প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বৃদ্ধির আবেদন জানান। একই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Laksmir Bhandar) প্রকল্প প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভবিষ্যতে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
সম কাজের জন্য সম বেতনের প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্য সরকার এই মৌলিক দাবিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা আগে ১,০০০ টাকা পেতেন, ভবিষ্যতেও তাঁরা সেই টাকাই পাবেন - নতুন কোনও বাস্তব আর্থিক সুবিধা মিলবে না। বেকার যুবকদের জন্য বাজেটে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণাকেও তিনি কটাক্ষ করেন।
বিরোধী দলনেতা স্মরণ করিয়ে দেন, রাজ্যে একসময় ‘যুবশ্রী’ নামে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি প্রকল্প চালু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে সেই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন এবং এক লক্ষ বেকারকে মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সেই প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ‘যুবসাথী’ প্রকল্প আসলে একটি ভাঁওতা।
চাকরির প্রশ্নে আরও তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের ৫১টি কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্রে কার্যত তালা ঝুলছে। চাকরি চুরির অভিযোগে সরকার কোণঠাসা বলেই বাজেটে নতুন চাকরির কোনও স্পষ্ট প্রভিশন রাখা হয়নি বলে তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য, সরকার চাকরি দেওয়ার পথ ছেড়ে ভাতা নির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।
রাজ্যের আর্থিক অবস্থার প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলনেতা বলেন, গত ১৫ বছরের হিসাব রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। কেন রাজ্যের ঋণের বোঝা বেড়ে ২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ষষ্ঠ পে কমিশনের সুপারিশ অর্ধেক করে কার্যকর করা হয়েছে কেন এবং সপ্তম পে কমিশন এখনও চালু হয়নি, এই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী।
সবশেষে বিধানসভার বাজেট বিতর্কে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জবাবী ভাষণ দেওয়ার সময় অশোক লাহিড়ীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন - এই অভিযোগ তুলে ওয়াক আউট করে বিজেপি।