বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তারা ৬০ বছর বয়সে পৌঁছলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে যান। তাঁর বক্তব্য, এবারের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলেও বার্ধক্য ভাতার অঙ্কে কোনও বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অশোক লাহিড়ী
শেষ আপডেট: 6 February 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভায় (Bidhansabha) বাজেট অধিবেশনের (State Budget 2026) দ্বিতীয় দিনে শাসক-বিরোধী তরজায় উত্তপ্ত হল। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Laksmir Bhandar) প্রকল্প, বার্ধক্য ভাতা এবং সামগ্রিকভাবে রাজ্য বাজেটের দৃষ্টিভঙ্গি। সেই সঙ্গে অধিবেশন কক্ষে হল উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময়ও।
বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তারা ৬০ বছর বয়সে পৌঁছলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে যান। তাঁর বক্তব্য, এবারের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলেও বার্ধক্য ভাতার অঙ্কে কোনও বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়নি। শঙ্কর ঘোষ অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) কাছে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার আবেদন জানান।
এরপর বাজেটের সামগ্রিক চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেন বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী (Ashok Lahiri)। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজেটের নথি ও পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর মতে, এ বছর রাজ্য সরকারের পেশ করা বাজেট একেবারেই ‘নিরস’ নয়, বরং নানা দিক থেকে তা ‘সরস’। যদিও সেই ‘সরসতা’র ব্যাখ্যায় তিনি কটাক্ষের সুর রাখেন।
অশোক লাহিড়ী কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পূর্ববর্তী মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘হামটি ডামটি বাজেট’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এই মন্তব্যের উল্লেখ করে লাহিড়ী বলেন, ‘হামটি ডামটি’ শব্দবন্ধের অর্থ ইংরেজি অভিধানে খুঁজে পাননি তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এই মন্তব্য যদি ইতিবাচক অর্থে হয়ে থাকে তবে তা গ্রহণযোগ্য, আর যদি নেতিবাচক অর্থে হয়, তাহলে সেই একই শব্দ প্রয়োগ করেই তিনি রাজ্য সরকারের বাজেটকে ‘হামটি ডামটি বাজেট’ বলছেন।
বাজেটের তীব্র সমালোচনা করে তাঁর এও অভিযোগ, বিপুল তথ্য ও নথি পেশ করে সরকার বিরোধীদের ‘হকচকিয়ে’ দিতে চাইছে। পাশাপাশি তিনি সরকারের মনোভাবকে ‘ম্যায় হুঁ না’ ধরনের বলে ব্যাখ্যা করেন - অর্থাৎ সরকার নিজের অবস্থানেই অনড়।
রাজ্যপালের ভাষণ প্রসঙ্গ তুলে অশোক লাহিড়ীর কটাক্ষ, ''রাজ্য সরকারের এত প্রকল্প যে ঠিকমতো গোনা যায় না। এত প্রকল্প যে এরপর না গিনেস বুকে নাম উঠে যাবে! আমার পরামর্শ একটা পুস্তিকা প্রকাশ করুন। মানুষ জানতে পারবে কাদের জন্য কী প্রকল্প। নতুন সরকার আসবে, আপনারাও আসতে পারেন। কে কোথায় বসবেন জানা নেই। আমিও ফিরে আসব কিনা জানি না।''
তাঁর 'আশঙ্কা', যদি তৃণমূল ক্ষমতায় আসে তাহলে ভাল, না হলে নতুন দল আসলে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাবে।
এই আলোচনা চলাকালীন শাসক দলের বিধায়ক উদয়ন গুহর কিছু মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বক্তব্য থামিয়ে অশোক লাহিড়ী বলেন, “আপনি বলুন, ম্যায় হুঁ না।” সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অধিবেশন কক্ষে মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের উদ্যোগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।