ফিরহাদ হাকিম বারবার জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ক্রিমিনাল নই।” সংখ্যালঘু সমাজকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্যে আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা অধিবেশন কক্ষের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

অগ্নিমিত্রা পাল এবং ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 6 February 2026 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বাজেট অধিবেশনের (State Budget Session) বিতর্কে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ অর্থ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী থাকল বিধানসভা (Bidhansabha)। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) বক্তব্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তাল হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ। শাসক ও বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাক্যবিনিময়, যা ক্রমে তুমুল উত্তেজনার রূপ নেয়।
বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, চলতি বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষার (Madrasa) জন্য বরাদ্দ প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অর্থ আদৌ শিক্ষার উন্নয়নে খরচ হবে, না কি এর আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের (Illegal Immigrants) রক্ষা করার চেষ্টা চলছে! এই মন্তব্যের পরই অধিবেশন কক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শাসক শিবিরের একাধিক বিধায়ক প্রতিবাদে সরব হন।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুরা (Minority) ক্রিমিনাল নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে আমরা প্রাণ দিয়েছি। অথচ আপনারা আমাদের ঘৃণা করেন।” তাঁর এই বক্তব্যের পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। শাসক দলের বিধায়কদের বেঞ্চ থেকে একের পর এক প্রতিবাদী মন্তব্য ভেসে আসে।
ফিরহাদ হাকিম বারবার জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ক্রিমিনাল নই।” সংখ্যালঘু সমাজকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্যে আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা অধিবেশন কক্ষের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এই পর্যায়ে ফিরহাদ হাকিম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ টেনে বলেন, “এপিজে আবুল কালাম আজাদ কি ক্রিমিনাল ছিলেন? কাজী নজরুল ইসলাম কি ক্রিমিনাল ছিলেন?” এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বিজেপির উদ্দেশে তীব্র সমালোচনা করেন।
ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, মুসলমানরা কখনওই অপরাধী নয়। তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।” একই সঙ্গে তিনি 'সারে যাঁহা সে আচ্ছা...' সুর তুলে বলেন, এই দেশ সকলের, কোনও একটি সম্প্রদায়ের একার নয়।
এই মন্তব্যগুলির পর বিধানসভায় চিৎকার, স্লোগান ও পাল্টা মন্তব্যে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অধ্যক্ষ একাধিকবার হস্তক্ষেপ করে সদস্যদের শান্ত থাকার আবেদন জানান। যদিও কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন কক্ষের পরিবেশ ছিল প্রবল উত্তেজনাপূর্ণ।