শুভেন্দুর নিশানায় ছিল তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা। বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজীব কুমারকে উচ্চকক্ষে পাঠানো নিয়ে শাসকদলকে একহাত নেন তিনি। শুভেন্দুর কটাক্ষ, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্নে যাঁরা নিজেদের রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে দলটাকে দাঁড় করিয়েছিলেন, আজ তাঁদেরই ‘নির্বাসনে’ পাঠানো হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 7 April 2026 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর হাতেগোনা কয়েক দিন বাকি। ঠিক তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার শাসক শিবিরের দুর্গে বড়সড় থাবা বসাল ভারতীয় জনতা পার্টি। ক্যানিং এবং গোসাবা এলাকায় কয়েকশো তৃণমূল নেতা ও কর্মী ঘাসফুল ত্যাগ করে পদ্মশিবিরে নাম লেখালেন। আর সেই যোগদান মঞ্চ থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সাফ দাবি, “মানুষ আর তৃণমূলের অত্যাচার ও স্বজনপোষণ সহ্য করতে পারছেন না।”
এদিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিল তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা। বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজীব কুমারকে উচ্চকক্ষে পাঠানো নিয়ে শাসকদলকে একহাত নেন তিনি। শুভেন্দুর কটাক্ষ, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্নে যাঁরা নিজেদের রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে দলটাকে দাঁড় করিয়েছিলেন, আজ তাঁদেরই ‘নির্বাসনে’ পাঠানো হয়েছে। বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সিকে কার্যত জোর করে অবসরে পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ মুখদের সরিয়ে এখন বাবুল সুপ্রিয় বা কোয়েল মল্লিকের মতো ‘আনাড়ি’দের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতির আঙিনায় যাঁদের অভিজ্ঞতা কার্যত শূন্য, তাঁদেরই এখন মাথায় তুলে নাচছে তৃণমূল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই দলবদল রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ক্যানিং ও গোসাবার কয়েকশো তৃণমূল কর্মী ছাড়াও বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য এবং মন্ডল স্তরের নেতা এদিন গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন। যোগদানকারীদের অভিযোগ, শাসকদলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের জেরে তাঁদের দমবন্ধ হয়ে আসছিল। এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার কোনও সুযোগ ছিল না। বরং ‘তোলাবাজি’ আর ‘ভয়ের রাজনীতি’ অসহ্য হয়ে ওঠায় তাঁরা নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমূলক রাজনীতির ওপর আস্থা রাখছেন।
তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঢালাওভাবে কাউকে দলে নেওয়া হচ্ছে না। যাঁদের বিরুদ্ধে চুরি, ছাপ্পা ভোট বা সন্ত্রাসের কোনও অভিযোগ নেই এবং এলাকায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁদের বিজেপিতে ঠাঁই দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ঠিক মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জায়গায় এই মাপের দলবদল তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। পুরনো বনাম নতুনের এই লড়াই যে আগামী নির্বাচনে শাসকদলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মেজাজেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।