বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নির্বাচনী স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। একাধিক নেতা ও পর্যবেক্ষকের মতে, হিন্দু সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে এক শ্রেণির ভোটব্যাঙ্কে নজর দেওয়া হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 6 June 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওবিসি তালিকা (OBC List) পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। ক্যাবিনেটে সদ্য ঘোষিত তালিকা নিয়ে বড় অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, মূলত একটি সম্প্রদায়কে খুশি করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে হিন্দু ওবিসি গোষ্ঠীর বড় অংশ কার্যত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু মনে করান, জাতীয় ওবিসি কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) মোট ৯৯টি উপজাতি ওবিসি স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্গত উপজাতির সংখ্যা ছিল ৩৬। কিন্তু রাজ্য সরকার সম্প্রতি তিন মাস ধরে একটি সমীক্ষা চালায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে নতুন তালিকায় মোট ১৮০টি উপজাতিকে ওবিসি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৯টি উপজাতিই মুসলিম গোষ্ঠীভুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগের আঙুল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) দিকে।
অর্থাৎ, যেখানে আগে মুসলিম উপজাতির সংখ্যা ছিল ৩৬, সেখানে এখন তা দাঁড়িয়েছে ১১৯-এ। এই বৃদ্ধি অনেককেই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওবিসি ক্যাটেগরির আওতায় থাকা ৮১টি প্রধান উপজাতির মধ্যে ৭৩টিই বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের।
এছাড়া ওবিসি ‘এ’ ক্যাটেগরির মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সংরক্ষণের হার হল ৯০.১২ শতাংশ বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ‘বি’ শ্রেণিতে সংরক্ষণের হার ৪৬ শতাংশ—যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক পক্ষ।
বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নির্বাচনী স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। একাধিক নেতা ও পর্যবেক্ষকের মতে, হিন্দু সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে এক শ্রেণির ভোটব্যাঙ্কে নজর দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা পশ্চিমবঙ্গের সমাজগত ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে।
সার্বিকভাবে, এই ওবিসি তালিকা পুনর্বিন্যাস রাজ্যে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। শাসক শিবির যদিও বলছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংবিধানের গাইডলাইনের মধ্যে থেকেই। কিন্তু বিরোধীরা মনে করছে, এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে সমাজে।