দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তাঁর সাফ বার্তা, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ হয়ে যায়, তবে তৃণমূলের পার্টি অফিস খোলার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 27 March 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোট-প্রচারের (West Bengal Assembly Election 2026) পারদ চড়তেই এবার পুলিশের (West Bengal Police) ভূমিকা নিয়ে সম্মুখ সমরে বিজেপি (BJP)। বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) কুশমণ্ডিতে দাঁড়িয়ে স্থানীয় থানার আইসি (IC) এবং বিডিও-কে (BDO) নজিরবিহীন ভাষায় সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তাঁর সাফ বার্তা, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ হয়ে যায়, তবে তৃণমূলের পার্টি অফিস খোলার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
বৃহস্পতিবার মানিকোর হাইস্কুল মাঠে কুশমণ্ডির বিজেপি প্রার্থী তাপসচন্দ্র রায়ের সমর্থনে এক জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সুকান্ত দাবি করেন, কুশমণ্ডি থানার আইসি নাকি তৃণমূল নেতাদের (TMC Leader) ফোন করে ‘কাজে নামার’ নির্দেশ দিচ্ছেন। আইসি-র উদ্দেশে তোপ দেগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “পুলিশের ইউনিফর্ম পরে যদি তৃণমূল ক্যাডারের মতো কাজ করতে হয়, তবে ওটা ছেড়ে সরাসরি ঘাসফুল ঝান্ডা হাতে নিয়ে ভোটে দাঁড়ান। মনে রাখবেন, নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করে আপনাকে বরখাস্ত করতে পারে। তখন মুখ্যমন্ত্রীও বাঁচাতে পারবেন না।”
এর পরেই আইসির ব্যক্তিগত জীবন ও খাদ্যাভ্যাস টেনে আক্রমণাত্মক ঢঙে সুকান্ত বলেন, “যদি ভাল চান, বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখে থাকতে চান আর রবিবারে শান্তিতে খাসির মাংস ও তুলাইপাঞ্জি চালের ভাত খেতে চান, তবে সোজা হয়ে কাজ করুন। আমাদের হয়ে কাজ করতে হবে না, শুধু নিরপেক্ষ থাকুন। বাকিটা আমরাই বুঝে নেব।”
শুধু সুকান্তই নন, খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষও (Dilip Ghosh) পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর সুরেই সুকান্ত দাবি করেন, পুলিশ নিরপেক্ষ থাকলে তৃণমূলের (TMC) অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। এদিনের সভায় বিজেপি প্রার্থীর (BJP Candidate) পাশাপাশি জেলা নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন। সভামঞ্চে অন্য দল ছেড়ে বেশ কিছু কর্মী সুকান্তর হাত ধরে পদ্ম-শিবিরে যোগ দেন। ভোটের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুরের এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েন যে নতুন মোড় নিল, তা বলাই বাহুল্য।