হঠাৎ হাড়কাঁপানো শীত কেন বাড়ল কলকাতায়? পরিবেশ বিজ্ঞানীর ব্যাখ্যায় উঠে এল নেপথ্যের কারণ।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 6 January 2026 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতের দাপট এক ধাক্কায় বাড়ল রাজ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে কলকাতা (Kolkata) ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায়। প্রায় দুই ডিগ্রি নেমে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়াল ১০.২-এ। আবহাওয়াবিদদের মতে, জানুয়ারির মাঝামাঝি এই ঠান্ডা কলকাতাবাসীর কাছে নতুন নয়, তবে কনকনে ঠান্ডা বা শৈত্য প্রবাহের পরিস্থিতি নতুন। যার ফলে খানিকটা সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে গোটা বিষয়।
কেন হচ্ছে এমন? পরিবেশ বিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত এটা। প্রচন্ড ঠান্ডা বা প্রচন্ড গরম দুটোই বিশ্ব উষ্ণায়নের ফল। আবহাওয়ার ধরনটা এর জন্য পাল্টাচ্ছে। যে ধরনের শীত রাজ্যে অনুভূত হত, সেটা বদলেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমছে, শৈত্যপ্রবাহ বলয়ের মধ্যে ঢুকছি। এটা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব। ২০২৪-এ খুবই গরম পড়েছিল, লোকে অস্থির হয়ে গেছিল, এবার শীত। এভাবেই ধীরে ধীরে পরিবর্তন হবে।
তাপমাত্রার পরিসংখ্যান বলছে এটা নতুন নয়। ২০১৩ সালে কলকাতায় ৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও পিছনে তাকালে দেখা যায়, ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬.৭ ডিগ্রি। সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসেবেও ঠান্ডার ওঠানামা চোখে পড়ার মতো। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৯ ডিগ্রি, ২০১৮ সালে তা নেমেছিল ১০.৫ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ গত ১০ বছরে জানুয়ারি মাসে কলকাতার তাপমাত্রা মূলত ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে।
দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) একাধিক জেলায় শৈত্যপ্রবাহের (Cold Wave) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বীরভূম (Birbhum) ও পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) রয়েছে তালিকায়। শীতের দাপট বাড়বে নদিয়া (Nadia), উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (North & South 24 Parganas) এবং হুগলিতেও (Hooghly)।
এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরে (Bay of Bengal) একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, যা গতকাল রাতে অবস্থান করছে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে (South-West Bay of Bengal)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে আরও সুস্পষ্ট আকার নেবে। যদিও এর সরাসরি কোনও প্রভাব বাংলায় পড়বে না। তবে এই নিম্নচাপের জেরে বাতাসের গতিবেগ (Wind Speed) বেড়েছে, আর তার ফলেই রাজ্যে ঠান্ডা বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
আগামী সাত দিন রাজ্যজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া (Dry Weather) থাকবে। কোনও জেলাতেই বৃষ্টিপাতের (Rainfall) সম্ভাবনা নেই। আগামী চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজকের মতোই শীতল থাকবে। চার দিন পর তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি বাড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গের (North Bengal) ছবিটা আরও ভয়ঙ্কর। মালদহ (Malda), উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur), দার্জিলিং (Darjeeling), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ও কোচবিহারে (Cooch Behar) আগামী চার দিন শীতলতম দিনের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি কম থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি নীচে চলছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও দক্ষিণবঙ্গে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি এবং উত্তরবঙ্গে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত কম থাকতে পারে আগামী পাঁচ দিন।
কুয়াশার (Fog) ভোগান্তিও বাড়বে এই সব জেলায়। উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, মালদহ, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে সকালে হালকা থেকে মাঝারি ঘন কুয়াশা থাকতে পারে, বেলা বাড়লে দৃশ্যমানতা বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) ও নদিয়ায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা, বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকায় বাইরে বেরোলে সতর্ক থাকার পরামর্শ।