মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চাকরিহারা শিক্ষকরা বয়স ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে SSC-র নতুন ৪৪,২০৩ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পাবেন বাড়তি সুবিধা। পরীক্ষায় বসতে হলেও মিলবে বিশেষ ওয়েটেজ। এই সিদ্ধান্তই কি হতে চলেছে রাজ্যের ট্রাম্পকার্ড?

শেষ আপডেট: 27 May 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি ফিরবে কি? ফিরলেও সে জন্য পরীক্ষা দিতে হবে কি? মূলত এই দু’টি প্রশ্ন নিয়েই তোলপাড় চাকরিহারাদের অঙ্গন। এর মধ্যেই আজ, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৪২০৩টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরোবে ৩১ মে। তার পরে আবেদন করতে পারবেন সকলে (SSC New Recruitment)।
পাশাপাশিই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চাকরিহারাদের অনেকের বয়স পেরিয়ে গেছে, এদের ক্ষেত্রে আমরা বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দেব, যাতে তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারেন। কাজের অভিজ্ঞতার নিরিখেও চাকরিহারাদের আলাদা করে অ্যাডভান্টেজ দেওয়া হবে।’ বলে রাখা ভাল, এটি একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং এককালীন একটি সিদ্ধান্ত (SSC New Vacancy।
এখন জল্পনা ঘনিয়েছে, কী সেই বয়সের ছাড়? অভিজ্ঞতার নিরিখে অ্যাডভান্টেজই বা কী? কীভাবেই বা মিলবে এই সুবিধা, কারা পাবেন? পাশাপাশিই একটা সোজাসাপ্টা প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়েছে, তাহলে কি যে ২৪ হাজার ২০৩ জন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা হিসেবে রয়েছেন, তাঁরা বাকিদের থেকে দু’কদম এগিয়ে থাকবেন?
সরকারি সূত্রে কী জানা গেছে?
শিক্ষা দফতরের বিশেষ সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় (SSC News Recruitment)বয়সের উর্ধ্বসীমার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার একটা ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে। যেমন, যাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের বয়স যাই হোক না কেন, ৪৫ বা ৪৬, তিনিও নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন।
নবান্নের একটি সূত্র বলছে, শুধু আবেদন করতে পারবেন তাই নয়, যাঁরা ধরা যাক ৭-৮-৯ বছর ধরে চাকরি করেছেন, তাঁদের খানিকটা হলেও এগিয়ে রাখা হবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায়।
আজ সাংবাদিক বৈঠকে ঠিক এই কথাটিই উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, বয়সের ছাড় এবং অভিজ্ঞতার সুবিধার কথা। যদিও এই বিষয়টি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট ভাবে তিনি খোলসা করেননি।
কিন্তু তাঁর কথায় বিভিন্ন মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ৪৪২০৩ পদে নিয়োগের জন্য যখন আবেদন গ্রহণ করা হবে, তখন যদি চাকরিপ্রার্থী উল্লেখ করেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা, তাহলে তিনি একটি ওয়েটেজ নিয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ রিভিউ পিটিশনে রাজ্যের দাবি শেষমেশ যদি খারিজও হয়ে যায়, তাহলেও চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের নতুন নিয়োগে ভালরকম অ্যাডভান্টেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার।
তবে এই সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখলেও, এতে একেবারেই সন্তুষ্ট নন চাকরিহারা শিক্ষকরা। কারণ তাঁদের চাকরি থাকবে কিনা, সে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তাঁদের পরীক্ষায় বসতে হবে না—এমন কোনও নিশ্চয়তাও তাঁরা পাচ্ছেন না।
কিন্তু নবান্নের অন্দরের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝাতে চাইছেন, যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টারই একটি দিক হল চাকরিহারাদের অগ্রাধিকার দেওয়া। যাতে কিনা, পরীক্ষা দিতে হোক বা না হোক, তাঁদের কারও চাকরি না যায়।
বস্তুত, একথা বলাই বাহুল্য, ২৪২০৩ জন চাকরিহারা শিক্ষকের চাকরি ফিরিয়ে দিতে বা তাদের চাকরি না যাওয়াকে নিশ্চিত করতেই আরও ২০ হাজার মতো নতুন পদ তৈরি করে, সম্পূর্ণ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, মোট ৪৪২০৩ জনের।
এখন সুপ্রিম কোর্টের তরফে রিভিউ পিটিশনের শুনানির উপরেও অনেক কিছু নির্ভর করছে। ধরা যাক, রাজ্য সরকার যদি পিটিশনে জিতে যায়, সুপ্রিম কোর্ট যদি নির্দেশ দেয়, যোগ্য চাকরিহারাদের আর পরীক্ষা দিতে হবে না, তখন কেবল নতুন প্রার্থীরাই পরীক্ষা দেবেন। আর যদি পিটিশনে হেরেও যায় রাজ্য, সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে সকলকে পরীক্ষা দিতেই হয়, তাহলেও যাতে চাকরিহারা শিক্ষকরা এগিয়ে থাকেন সেই প্রক্রিয়ায়, সেদিকেই আজ ইঙ্গিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনেকেই মনে করছেন, চাকরি খোয়া যাওয়া রুখতে, বয়স ও অভিজ্ঞতার এই ‘সুবিধা’টুকুই মুখ্যমন্ত্রীর ট্রাম্পকার্ড, এবং আপাতভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া চাকরিহারাদের হাতেও এই মুহূর্তে খুব বেশি বিকল্প নেই।
এখানে বলে রাখা ভাল, ৩১ মে যে বিজ্ঞপ্তি বেরোবে, তার জন্য আবেদন করার তারিখ শুরু হচ্ছে ১৬ জুন থেকে, শেষ তারিখ ১৪ জুলাই। এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশ জানা যাবে বলেই খবর। ফলে সেই নির্দেশ বেরোনোর পরে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে, রাজ্য সরকারের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক কোন পথে এগোবে!