সোমবার অমনদীপ কৌর নামের প্রাক্তন ওই মহিলা কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ধৃত অমনদীপ কৌর
শেষ আপডেট: 27 May 2025 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির (Pakistan Spy) অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রা (Jyoti Malhotra)। তাঁকে কেন্দ্র করে নিত্যনতুন একাধিক তথ্য উঠে আসছে। জ্যোতির বিদেশ ভ্রমণ, জীবনযাত্রার মান দেখে অবাক হয়েছেন গোয়েন্দারাও। এসবের জন্য টাকা কোথা থেকে আসত সে নিয়েও তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় গ্রেফতার হলেন পাঞ্জাব পুলিশের এক মহিলা কনস্টেবল (প্রাক্তন) (Punjab Police Woman Constable)। তাহলে কি তাঁর সঙ্গেও চরবৃত্তির কোনও যোগ রয়েছে?
সোমবার অমনদীপ কৌর (Amandeep Kaur) নামের প্রাক্তন ওই মহিলা কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই মহিলার কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আগেই মাদকচক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। মাদক সহ ধরাও পড়েছিলেন তিনি। তারপরই কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অমনদীপকে। এবার আয় বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় গ্রেফতার হলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, অমনদীপের একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, বাইক তো রয়েছেই, তাঁর ভাতিন্ডায় যে বাড়ি আছে তা কমপক্ষে ১ কোটি টাকা দিয়ে তৈরি! শুধু তাই নয়, দামি ঘড়ি, মেকআপ কিট থেকে শুরু করে ভাতিন্ডার ড্রিম সিটিতে ১৯ লক্ষ টাকা দিয়ে জমিও কিনেছিলেন অমনদীপ। একজন পুলিশ কনস্টেবলের কাছে এত টাকা কীভাবে এল, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্যের মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, অমনদীপের কাছে মহিন্দ্রা কোম্পানির থার থেকে শুরু করে রয়্যাল এনফিল্ড বাইক, দুটি আইফোন, লক্ষ টাকার রোলেক্স ঘড়ি রয়েছে। এছাড়া অমনদীপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। এই প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর থেকে যা যা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার একটি তালিকাও তৈরি করেছে পুলিশ। জানা গেছে অমনদীপের ভাতিন্ডায় দুটি জমি রয়েছে। একটির মূল্য ৯৯ লক্ষ, অন্যটির ১৮ লক্ষ ১২ হাজার।
পুলিশ হিসেবে কাজের পাশাপাশি তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর ইনস্টাগ্রামের প্রোফাইলের নাম - ইনস্টা কুইন। সেই ভিডিওতেই অমনদীপের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ছবি ধরা পড়ে। তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অমনদীপের মোট রোজগার ছিল ১ কোটির কিছু বেশি। কিন্তু একই সময়ে তিনি খরচ করেছেন ১৩ কোটির বেশি টাকা!
গত মাসে তাঁর বাড়ি থেকে ১৭ গ্রাম মাদক উদ্ধার করেছিল নারকোটিক্স বিভাগ। তারপরই চাকরি যায় অমনদীপের। এখন প্রশ্ন, মাদক ব্যবসায় যুক্ত থেকেই কি এই রোজগার করতেন তিনি, নাকি অন্য কোনও চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন অমনদীপ?