আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা গেলেও নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ওই সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট চাপে রয়েছে এসএসসি।

ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 27 November 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (Recruitment) শেষ করা গেলেও নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ (SSC Recruitment) প্রক্রিয়া ওই সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট চাপে রয়েছে এসএসসি (SSC News)। যদিও বৃহস্পতিবার এসএসসি-কে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) বললেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে নিয়োগ শেষ করা যায়, সেটা নিশ্চিত করাই স্কুল সার্ভিস কমিশনের।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে ব্রাত্য বলেন, "স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে এসএসসি। আমাদের কাজ কমিশন যাতে নির্বিঘ্নে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। যদি সেটা কোনওভাবে না হয় তাহলে এসএসসি আইনি প্রক্রিয়া মেনে এগোবে।"
অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশ মেনে দাগিদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমাদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে আর খানিকক্ষণ পরেই টেইন্টেডদের (দাগি) সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও স্বচ্ছতার সঙ্গে শেষ করার পরে শুধু আশাবাদী নই, বদ্ধপরিকরও।"
ব্রাত্য আরও বলেন, বিরোধী হিসেবে দলগুলো চাইবেই, চেষ্টা করবেই যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিয়োগ করতে না পারে। সেটা তাদের কাজ। আমাদের কাজ নিয়োগ করা। আমরা সেটা স্বচ্ছতার সঙ্গেই করব। আমি মনে করি না যে বিচারক ভেদে কোর্ট ভেদে আইন বা বিচার বদলায়।"
বস্তুত, এপ্রিল মাসের ৩ তারিখে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এসএসসি মামলায় (SSC Case) ২৬ হাজার চাকরি বাতিলই করে। এই রায়ের ফলে চাকরিহারা শিক্ষকরা তো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েনই, তার উপর রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাও যে সঙ্কটে পড়ে, তা বলাই বাহুল্য। তাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আর্জি জানিয়েছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। তাদের সেই আবেদনেই শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে।
পর্ষদের আর্জি ছিল, যাঁরা 'টেইন্টেড' বা ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’ নন, আপাতত তাঁদের চাকরি বহাল থাক। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার কথা মাথায় রেখেই এই আবেদন করেন তাঁরা। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চে তার শুনানিও হয়। তাতেই সাময়িক স্বস্তি মেলে চাকরিহারাদের বড় অংশের।
দুর্নীতির অভিযোগে এসএসসির ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হওয়ায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি গেছে। এঁদের মধ্যে ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ রয়েছেন প্রায় হাজার আটেক শিক্ষক। চাকরি বাতিলের পাশাপাশি তাঁদের বেতনও ফেরত দিতে বলা হয়।
এই জায়গা থেকেই পর্ষদ আর্জি করে যে, 'চিহ্নিত অযোগ্য' ছাড়া বাকিদের চাকরি যাতে বহাল রাখা যায়। তাদের যুক্তি, এমনটা না হলে অনেক স্কুলে পড়ানোর মতো শিক্ষক থাকবেন না। এই আর্জির প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত, অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিতরা বাদ দিয়ে বাকিরা চাকরি করবেন পরবর্তী নিয়োগের আগে পর্যন্ত। সেই তারিখটা ৩১ ডিসেম্বর বলে জানায় আদালত।