মালদহ সীমান্ত দিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন বীরভূমের সোনালি বিবি ও তাঁর সন্তান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও মানবিকতার খাতিরে শুরু হয় দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া। সীমান্তে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন সন্ধেয়।

সোনালি বিবি ও তাঁর ছেলে
শেষ আপডেট: 5 December 2025 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার দেশে ফিরলেন বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি (Sonali Bibi)। সঙ্গে ফিরল তাঁর আট বছরের ছেলেও। সন্ধে ৭টা নাগাদ মালদহের মহদিপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র দিয়ে তিনি মালদহে আসেন। তারপর তাঁকে বীরভূম ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
Finally, after a long battle against the Bangla-Birodhi Zamindars, Sunali Khatun and her minor son have returned to India. This day will be remembered as a historic moment that exposes the torture and atrocities inflicted on poor Bengalis. Sunali, who was pregnant at the time,… pic.twitter.com/ktfMkeOJIQ
— Samirul Islam (@SamirulAITC) December 5, 2025
মহদিপুরের ওপারে বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার বড় সোনা মসজিদ এলাকায় ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই এদিন তাঁদের ফেরানো হয়। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই তরুণীকে স্বাগত জানাতে সীমান্তে হাজির হয়েছিলেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মণ ঘোষ, সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন। ছিলেন পুলিশ আধিকারিক, বিএসএফ এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্তারা।
ভারতীয় সীমানায় ঢুকে সোনালিকে বিএসএফের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যবস্থা করা হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সের। জানা গিয়েছে, সোনালিকে সেখান থেকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হতে পারে প্রথমে।
গোটা বিষয়টি জানিয়ে টুইট করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শামিরুল ইসলাম (Samirul Islam)। তিনি লেখেন, 'ছ’মাসের সংগ্রামের পর অবশেষে নিজের দেশে ফিরলেন সোনালি খাতুন ও তাঁর সন্তান। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Order) স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার গত দু’দিন কোনও পদক্ষেপ করেনি, ফলে আইনজীবীদের ফের আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করতে হয়।'
বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জের বড় সোনা মসজিদ (Boro Sona Masjid) এলাকায় ছিলেন সোনালি। সেখানে জামিনের পর স্থানীয় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছিল। নবাবগঞ্জের এক বাসিন্দার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল তাঁর ও আট বছরের ছেলের। তবে শুরু থেকেই সোনালির আবেদন ছিল, তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা (Pregnant Woman)। ভারতীয় হয়ে এদেশেই সন্তান জন্ম দিতে চান।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে বাংলায় কথা বলায় তাঁকে ‘বাংলাদেশি সন্দেহভাজন’ (Bangladeshi Suspect) বলে ধরা হয় তাঁকে। এরপর কোনও পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই (Verification Process) ছাড়াই বিএসএফ তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক (Pushback Action) করে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। বিষয়টি ওঠে কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) প্রশ্ন তোলেন, যখন সোনালির বাবা ভারতীয় নাগরিক, তখন তাঁকে বাংলাদেশি আখ্যা দেওয়া হল কীভাবে? নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পদ্ধতিই বা কীভাবে নির্ধারণ করা হল? আদালতের পর্যবেক্ষণ, একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাই (Health & Safety) এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে সোনালি ও তাঁর সন্তানকে ভারতীয় সীমানায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সরাসরি বীরভূমে (Birbhum District) তাঁর বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয় বীরভূমের চিফ মেডিক্যাল অফিসারকে (CMO Birbhum) এবং সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সোনালি ফিরে আসা মানবিকতার জয় (Humanitarian Victory)। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা দেশের অভিবাসন নীতি (Immigration Policy) ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।