বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশে পুশব্যাক হওয়া গর্ভবতী সোনালি বিবি ও তাঁর সন্তানকে দেশে ফেরাতে চলেছে ভারত সরকার। সুপ্রিম কোর্টের মানবিক হস্তক্ষেপে ফিরল আশার আলো।

সোনালি বিবি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে (Bangladesh) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল গর্ভবতী যুবতী সোনালিকে (Pregnant Sonali Bibi)। এই অদ্ভুত ও দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতার পর অবশেষে দেশে ফিরতে চলেছেন বীরভূমের (Birbhum) সোনালি বিবি ও তাঁর আট বছরের সন্তান।
জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ ও মানবিক বিবেচনায় ভারত সরকার তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে। সূত্রের খবর, সোনালি বিবির দেশে ফেরার মামলার শুনানিতে আদালতে একথাই জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta)।
বীরভূমের সোনালি কাজ করতেন দিল্লিতে (New Delhi)। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে দিল্লি পুলিশ প্রথমে সোনালিকে ‘বাংলাদেশি’ (Bangladeshi) বলে ধরে। এরপর তাঁকে এবং তাঁর শিশুকে অসম সীমান্ত (Assam Border) দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে বিএসএফ। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়, সরব হয় তৃণমূল। কয়েক সপ্তাহের আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে অবশেষে সোনালির দেশে ফেরার পথ খুলল।
আপাতত বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জে রয়েছেন সোনালি খাতুন, সঙ্গে তাঁর সন্তান। তাঁদের পাশে রয়েছেন বীরভূমের যুবক মফিজুল শেখ, যিনি বাংলাদেশ–প্রান্ত থেকে বিষয়টি সমন্বয় করছেন। তিনি জানিয়েছেন, জামিন পাওয়ার পর সোনালিদের স্থানীয় পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়েছে। এখন তাঁরা নবাবগঞ্জের ফারুক আলির বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা পেয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে সোনালির কাতর অনুরোধ, ‘আমি ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দয়া করে আমাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন। আমার সন্তান যেন ভারতেই জন্ম নিতে পারে।’
তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন, বাংলা থেকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামকেও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যিনি এই ইস্যুতে শুরু থেকেই সরব।
মফিজুলের অভিযোগ, জামিনের পরও ভারত সরকারের তরফে তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্ট দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ আদালত জামিন দিয়েছে। কিন্তু এখনও কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি।’
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, সোনালিদের দেশে ফেরানো হবে সরকারি নিয়ম মেনে, তবে মানবিক কারণ বিবেচনায় যেন কোনও বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন গর্ভবতী নারী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে অগ্রাধিকার।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক ভুল সংশোধন নয়, বরং মানবিকতার জয়। যদিও এখনও অভিবাসন–নীতির প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, এই ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
তবে সব দিক থেকে দেশে ফেরা নিশ্চিত হলেও, বাস্তবে ঠিক কবে তাঁরা ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পেরোতে পারবেন, তা এখন সরকারি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশে ভারতীয় কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী— এই তিন পক্ষের মিলিত ব্যবস্থাই নির্ধারণ করবে সোনালিদের প্রত্যাবর্তনের দিন।