এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ তাফিজ উদ্দিন, যিনি সেই এলাকার বিএলও যেখানে জুবিন গর্গের পরিবার ভোট দিতেন। নিয়ম মেনে দরজায় দরজায় যাচাই করতে গিয়ে তিনি যখন জুবিনের নামের পাশে পৌঁছন, মনকে শান্ত রাখতে পারেননি।

জুবিন গর্গ
শেষ আপডেট: 3 December 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুবিন গর্গ (Zubeen Garg) আর নেই - এই কঠিন সত্যিটা এখনও মানতে পারছেন না অসমবাসী (Assam)। কারণ-অকারণে এখনও নানা জায়গায় বেজে উঠছে তাঁর গান, প্রিয় গায়ককে স্মরণ করেই দিন গুজরান করছেন অগণিত ভক্ত। এসবের মধ্যেই জুবিন যে তাঁদের কতটা আপন তার আরও একটি বড় প্রমাণ পাওয়া গেল ভোটার তালিকার (Voter List) সংশোধনের কাজে। মৃত হলেও গায়কের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিলেন না বিএলও (BLO)।
‘‘উনি তো অমর (Immortal)!’’ জুবিন গর্গকে (Zubeen Garg) নিয়ে এমনই বার্তা রাজ্যের বিএলও-দের। সাধারণত, ভোটারের মৃত্যু হলে (Dead Voter) সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু নামটা যেখানে জুবিন গর্গ, সেখানে নিয়মের ঘেরাটোপে পড়তে নারাজ রাজ্যবাসী। তাই বিভিন্নভাবে ভক্তদের অগাধ ভালবাসা ফুটে উঠছে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ পুনর্বিবেচনা (Special Revision) চলার সময় ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভোটার মারা গেলে পরিবারের তরফে ফর্ম ৭ জমা পড়লে তবেই নাম বাদ দেওয়া যায়। নিজে থেকে নাম কাটা যায় না - এমনই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)।
এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন মহম্মদ তাফিজ উদ্দিন, যিনি সেই এলাকার বিএলও (BLO) যেখানে জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) পরিবার ভোট দিতেন। নিয়ম মেনে দরজায় দরজায় যাচাই করতে গিয়ে তিনি যখন জুবিনের নামের পাশে পৌঁছন, মনকে শান্ত রাখতে পারেননি। ভোটার তালিকায় গায়কের ছবির পাশে তিনি লিখে দেন - “তুমি অমর হয়ে থাকো এবং শান্তিতে ঘুমাও।”
জুবিনের পরিবারের সদস্যরা ওই মুহূর্তটি পরে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। ঘটনাটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে অসম জুড়ে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাফিজ উদ্দিন বলেন, “অসমবাসীর মনে জুবিন গর্গ শুধু এক শিল্পী নন, তিনি আমাদের প্রাণ, আমাদের গলার স্বর। তাঁকে 'মৃত' হিসেবে চিহ্নিত করতে মন সায় দিচ্ছিল না। তালিকা যাচাই করতে গিয়ে আবেগ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের সমুদ্রে স্কুবা (Scuba Diving in Singapore) করতে নেমে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ৫২ বছরের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর (Zubeen Death)। জুবিন ওই সময়ে গিয়েছিলেন নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে। সেখানে অন্য শিল্পীদের সঙ্গে ইয়টে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রে নামার পর আচমকাই ঘটে বিপত্তি।
এই ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে ৬০টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের হয়। রাজ্য সরকার গঠন করে বিশেষ তদন্ত দল (SIT), যার নেতৃত্বে রয়েছে অসম পুলিশের সিআইডি শাখা। পাশাপাশি গঠন করা হয় এক সদস্যের বিচার কমিশন— গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র সাইকিয়ার নেতৃত্বে।
ঘটনার কয়েক দিন পর গ্রেফতার করা হয় ফেস্টিভ্যাল আয়োজক শ্যামকানু মহান্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিধার্থ শর্মা, ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও অমৃত প্রভা মহন্তকে। গ্রেফতার হন শিল্পীর আত্মীয় ও অসম পুলিশের কর্তা সন্দীপন গার্গও। পরে জুবিনের দুই নিরাপত্তা রক্ষী - নন্দেশ্বর বরা এবং প্রবীণ বৈশ্যকেও আটক করে পুলিশ।