গত জুনে দিল্লিতে কাজ করতেন বীরভূমের পাইকরের সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবি। পরিবারের অভিযোগ, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে এবং মামলা করে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 December 2025 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) আটক বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন-সহ (Sonali Khatun) ছ’জন অবশেষে মুক্তি পেলেন। পড়শি দেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালত সোমবার জামিন মঞ্জুর (Bail Granted) করেছে তাঁদের। আর তারপরই সোনালি, সুইটি বিবি-সহ বাকিরা জেল থেকে ছাড়া পান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একই দিনে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও (Supreme Court) মানবিকতার ভিত্তিতে সোনালিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রকে ফের নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রের তরফে আদালতে এ বিষয়ে সম্মতিও জানানো হয়েছে। তাহলে বলাই যায়, সোনালিদের ভারতে তথা বাড়িতে ফেরা সময়ের অপেক্ষা।
গত জুনে দিল্লিতে কাজ করতেন বীরভূমের পাইকরের সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবি (Sonali Khatun and Sweety Bibi)। পরিবারের অভিযোগ, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ‘পুশব্যাক’ (Pushback) করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে এবং মামলা করে। তখন থেকেই তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন।
পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, সোনালিরা ভারতের নাগরিক; জন্ম শংসাপত্র, ঠিকানার প্রমাণ - সব নথিই তাঁদের কাছে রয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোনালির বাবা ভদু শেখ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় - মানবিকতার খাতিরে দেশে ফেরার অনুমতি দিতে হবে।
এর আগেই ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) নির্দেশ দিয়েছিল, চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালিসহ ছ’জনকে ভারতে ফেরাতে হবে। ডেডলাইন ঘনিয়ে এলেও কেন্দ্র ২২ অক্টোবর ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়। তবে শীর্ষ আদালত আগের শুনানিতেই মন্তব্য করেছিল যে বক্তব্য না শুনেই তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ ছিল।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট বলেছিল, অনেক তথ্য রেকর্ডে রয়েছে—জন্মশংসাপত্র, আত্মীয়ের সঙ্গে বাস—এগুলোও এক ধরনের প্রমাণ। অভিযোগ, তাঁদের কথা না শুনেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় সোনালিদের পরিবারকে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। দুই দেশের আদালতের রায়কে তিনি দেখছেন বড় সাফল্য হিসেবে।