সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মালদহ সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরছেন সোনালি বিবি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর শুরু হয় তাঁর প্রত্যাবর্তনের কাজ।

সোনালি বিবি (ছবি- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 5 December 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহ সীমান্ত (Malda Border) দিয়ে অবশেষে ভারতে ফিরছেন বীরভূমের সোনালি বিবি (Sonali Bibi) ও তাঁর আট বছরের সন্তান। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Order) নির্দেশ এবং মানবিকতার খাতিরে (Humanitarian Grounds) কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে। শুক্রবারই তাঁরা ফিরছেন দেশে।
বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ (Bangladeshi Suspect) তকমা লাগিয়ে পুশব্যাক করা হয়েছিল। পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন গর্ভবতী এই যুবতী। অভিযোগ, কোনও সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে ও তাঁর শিশুকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ (Pushback Action) করে বিএসএফ (BSF)।
বিষয়টি ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) নিম্ন আদালতকে জানান, ভারত সরকার নিয়ম মেনে এবং মানবিকতা বজায় রেখেই তাঁদের দেশে ফেরাবে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে সোনালি ও তাঁর সন্তানকে ভারতের মাটিতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং একই সঙ্গে সরাসরি বীরভূমে (Birbhum District) তাঁর বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।
বাংলাদেশ–প্রান্তে নবাবগঞ্জে ছিলেন সোনালি খাতুন ও তাঁর সন্তান। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন মফিজুল শেখ, যিনি জানান, জামিন পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে। তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে সোনালি প্রথম থেকেই স্পষ্ট অনুরোধ করেন, তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাই দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতীয় হয়ে সন্তানকেও ভারতেই জন্ম দিতে চান।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও কম হয়নি। তৃণমূলের একাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। সোনালি নিজেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এদিকে এনিয়ে কেন্দ্রকে কঠোর ভাষায় কার্যত তুলোধনা করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যখন সোনালির বাবা ভারতের নাগরিক, তখন সন্তান হয়ে তিনি বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত হলেন কীভাবে? এর ভিত্তি কী? নাগরিকত্ব নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে এক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি সেই সূত্রেই নির্দেশ দেন, সোনালি ও তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা- সবই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে। বীরভূমের চিফ মেডিক্যাল অফিসারকে (CMO Birbhum) দায়িত্ব দেওয়া হয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার এবং গোটা বিষয়টিতে নজর রাখার, খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
রায় ঘোষণার পর অনেকেই একে মানবিকতার জয় বলছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেশের অভিবাসন নীতি (Immigration Policy) ও যাচাই ব্যবস্থার (Verification Process) কর্মকাঠামোর দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে, তা বলা বাহুল্য।