আদালত জানায়, আগামী সোমবার, ১ ডিসেম্বর, মামলার পরবর্তী শুনানির আগে সমস্ত নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট বার্তা, “পরিবারকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিন।”

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের পাইকর এলাকার অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে (Birbhum's Sonali Khatun) কোনও শারীরিক যাচাইকরণ ছাড়াই বাংলাদেশে পুশব্যাক—এই অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র সরকার। মঙ্গলবার শুনানিতে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে কার্যত জানিয়ে দিল—সোনালিদের ফেরানোর প্রস্তুতি নিন।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট বলেন, “অনেক তথ্য রেকর্ডে রয়েছে—জন্মশংসাপত্র, আত্মীয়ের সঙ্গে বাস—এগুলোও এক ধরনের প্রমাণ। অভিযোগ, তাঁদের কথা না শুনেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
বেঞ্চের মন্তব্য, “বেআইনি অনুপ্রবেশ হলে পুশব্যাকের অধিকার আপনাদের আছে। কিন্তু আগে নিশ্চিত করতে হবে তিনি দেশের নাগরিক কি না। কেউ যদি বলেন ভারতে জন্মেছেন, ছোট থেকে বড় হয়েছেন, তাঁর কথা অবশ্যই শোনার অধিকার আছে।”
আদালত জানায়, আগামী সোমবার, ১ ডিসেম্বর, মামলার পরবর্তী শুনানির আগে সমস্ত নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট বার্তা, “পরিবারকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিন।”
প্রসঙ্গত, গত জুনে দিল্লিতে কাজ করা সোনালি, সুইটি বিবি-সহ ছ’জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। ২০ অগস্ট তাঁদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে ধরে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশ অনুপ্রবেশের মামলাও রুজু করে।
সোনালিদের পরিবার এবং আইনজীবী দাবি করছেন—তাঁরা ভারতের নাগরিক, বৈধ নথিও রয়েছে। পুশব্যাকের বিরুদ্ধে মামলা করেন সোনালির বাবা ভদু শেখ; আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়—চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের ফেরাতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই, ২২ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র সময় চাইলেও বেঞ্চ অসন্তোষ দেখিয়ে মনে করিয়ে দেয়—“মানবাধিকার, বিশেষ করে এক গর্ভবতী মহিলার জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”