মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে গেল, মরসুমের শীতলতম দিন দেখল বাংলা। উত্তর থেকে দক্ষিণ-রাজ্যের দুই প্রান্তেই জাঁকিয়ে বসেছে কনকনে শীত, বাড়ছে কুয়াশার দাপটও।

আবহাওয়া (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 21 December 2025 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সকালে কলকাতা (Kolkata) দেখল মরসুমের শীতলতম ভোর। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (Degree Celsius)। চলতি শীতে এর চেয়ে কম তাপমাত্রা কলকাতায় আর হয়নি। এর আগে ৬ ডিসেম্বর পারদ নেমেছিল ১৪.৫ ডিগ্রিতে। তার তুলনায় এদিন আরও এক ধাপ নীচে নামল তাপমাত্রা। শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস-একদিনের ব্যবধানে প্রায় দু’ডিগ্রি পতনে স্বাভাবিক ভাবেই কাঁপুনি বেড়েছে শহরজুড়ে।
শনিবারের পর রবিবার-টানা দ্বিতীয় দিন ঘন কুয়াশার (Fog) ঘেরাটোপে গোটা বাংলা। ভোরের দিকে তো বটেই, বেলা বাড়লেও রোদের দেখা মিলল না বললেই চলে। আকাশজুড়ে ধূসর আবরণ, বাতাসে স্যাঁতস্যাঁতে ঠান্ডা। রোদ না ওঠায় দিনের বেলাতেও শীতের অনুভূতি কাটেনি। দৃশ্যমানতা (Visibility) অনেক জায়গাতেই ছিল তলানিতে। আবহাওয়া দফতর (Weather Department) জানিয়েছে, এই ঘন কুয়াশার নেপথ্যে রয়েছে সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)।
শুধু বাংলাতেই নয়, উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলগুলিতেও শীতের দাপট চোখে পড়ছে। লাদাখে (Ladakh) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে তুষারপাত (Snowfall)। কার্গিল (Kargil) এলাকায় এদিন সকাল পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ২ থেকে ৩ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছে বলে খবর। এই ঝঞ্ঝার প্রভাবেই উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ঠান্ডা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। কাশ্মীরেও হয়েছে তুষারপাত।
অন্যদিকে, রবিবার সকাল থেকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে গিয়েছিল কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Kolkata International Airport)। তবে স্বস্তির কথা, বিমান চলাচল (Flight Operations) তেমনভাবে ব্যাহত হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত আলোর (Advanced Lighting System) সাহায্যে উড়ান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। সকাল আটটা নাগাদ বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ৬০০ মিটার। মূল রানওয়ের (Main Runway) দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ১০০০ মিটার। ফলে বড় কোনও উড়ান বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়াশার দাপট শুধু কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমের জেলাগুলিতেও বাড়ছে। বাঁকুড়া (Bankura) জেলার আকাশ সকাল থেকেই ছিল মেঘে ঢাকা। তার সঙ্গে কনকনে উত্তুরে হাওয়া ঠান্ডা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তরবঙ্গের নীচের দিকের জেলাগুলিতেও একই ছবি-ভোর থেকে কুয়াশা, ঠান্ডা আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া।
আলিপুর জানিয়েছে, কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ২৫ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা আরও একটু নামতে পারে। রবিবার পুরুলিয়া (Purulia), পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) ও বীরভূম (Birbhum) জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি রয়েছে। এই সব এলাকায় দৃশ্যমানতা কোথাও কোথাও ৫০ মিটারেরও নীচে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা। আগামী কয়েকদিন পশ্চিমের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে (Coastal Districts) রাতের তাপমাত্রা থাকতে পারে ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।
বৃষ্টির (Rain) সম্ভাবনা অবশ্য আপাতত নেই। আগামী সাতদিন রাজ্যের কোথাও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দফতর। তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই বলেই জানানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের (North Bengal) পরিস্থিতিও বেশ কড়া। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে (Uttar Dinajpur, Dakshin Dinajpur) রবিবার ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। সোমবারেও একই ছবি দেখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস। দার্জিলিং (Darjeeling), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ও আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলাতেও ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং ও সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় রাতের তাপমাত্রা থাকতে পারে ৯ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আর মালদহ (Malda) ও সংলগ্ন, অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের নীচের দিকের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করবে ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে।