রাতের অন্ধকারে দুটি গন্ডারকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে জানা যায় পুন্ডিবাড়ির দুই বাসিন্দা গন্ডারের আক্রমণে জখম হয়েছেন। বনদফতর এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

শেষ আপডেট: 10 October 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: বন্যার (North Bengal) জলে ভেসে আসা বন্যপ্রাণী এখন ত্রাস হয়ে উঠেছে গোটা কোচবিহারে (Coochbehar)। বুধবার রাত থেকে এলাকায় গন্ডার (Rhinoceros) ঘুরে বেড়াতে দেখেন পুন্ডিবাড়ির বাসিন্দারা। শুক্রবার সকালে জানা যায় পুন্ডিবাড়ির দুই বাসিন্দা গন্ডারের আক্রমণে (Rhinoceros Attack) জখম হয়েছেন। বনদফতর এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করেছে।
বন্যার পর জল কমতেই দেখা যাচ্ছে নতুন এই বিপদ—বন্যপ্রাণ ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। বিশেষত কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের ঘোষকাডাঙ্গা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গন্ডার ও বন্য শুকরের উপদ্রবে। বন্য শূকরের হামলায় বৃহস্পতিবার প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। দুই বাসিন্দা জখম হওয়ায় গন্ডারের আতঙ্ক পুন্ডিবাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে পুন্ডিবাড়ি এলাকার মাঠ ও পুকুরে একটি গন্ডারকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন বাসিন্দারা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। গন্ডারের আক্রমণে গুরুতর জখম হন দুই স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ দাস ও বিভা কর। দু’জনকেই কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে বন দফতর ও দমকল বিভাগ যৌথভাবে অভিযান চালায়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর জলদাপাড়া বন দফতরের বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় ঘুমপাড়ানি ইঞ্জেকশন দিয়ে একটি গন্ডারকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। গন্ডারটি কোথা থেকে লোকালয়ে ঢুকেছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত নজরদারি জারি থাকবে, যাতে অন্য কোনও বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে না পড়ে।
এই মুহূর্তে ঠিক ক'টি গন্ডার এলাকায় রয়েছে সেই সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন বন দফতরের কর্মীরা। তাঁদের অনুমান, জলদাপাড়ার থেকে জলে ভেসে এসেছে গন্ডারগুলি। জলদাপাড়ার জঙ্গলে গন্ডারের সংখ্যা বন দফতরের রেকর্ডে থাকলেও বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা এখন কত দাঁড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ বেশ কয়েকটি গন্ডারের মৃত্য়ু হয়েছে। পুন্ডিবাড়ির এখানে সেখানে গন্ডার ঘুরে বেড়াতে দেখা গেলেও সংখ্য়া নিয়ে মতভেদ আছে। বন দফতর এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। লোকজনকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে বারণ করা হয়েছে।
এদিকে মাথাভাঙায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে একাধিক বন্য শুকর। ইতিমধ্যেই এই বন্য শুকরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই গ্রামবাসী।বড় শিমুলগুড়ি এলাকার বাসিন্দা ধীরেন বর্মন (৪৮) জমিতে ঘাস কাটছিলেন। বিপদ অপেক্ষা করছিল পিছনে। বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই একটি বন্য শূকর তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। গুসকা টাকার ভেলাকপা এলাকায় একইভাবে প্রাণ হারান ৫৯ বছর বয়সের কাশীকান্ত বর্মন।