রাজ্য সরকারের দাবি, “পোস্টিং প্রক্রিয়া কেবল মেধার উপর নির্ভরশীল নয়, অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে কোথায় কাকে পাঠানো হবে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতোর পোস্টিং নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে আরজি কর হাসপাতালেই পোস্টিং দিতে হবে— সম্প্রতি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রায় মানতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতর। এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল রাজ্য (State challenges Calcutta High Court Order)।
অনিকেতের অভিযোগ ছিল, কাউন্সেলিং চলাকালীন আরজি করের নাম পছন্দ হিসেবে জানিয়েছিলেন তিনি। অথচ তালিকা প্রকাশের সময় দেখা যায়, তাঁকে পাঠানো হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে। অন্যদিকে তাঁর ব্যাচের অধিকাংশই পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পেয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল— যদি কাউন্সেলিংয়ের ভিত্তিতেই পোস্টিং না হয়, তবে এই প্রক্রিয়ার মানেটাই বা কী?
এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন অনিকেত। শুনানিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী যুক্তি দেন, “স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অনিকেত মাহাতোর র্যাঙ্ক ২৪। কেবল পছন্দের হাসপাতালেই কাজ করতে হবে, এই দাবি তিনি কী করে করতে পারেন?”
দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু নির্দেশ দেন, মেধার ভিত্তিতে অনিকেতকে আরজি করেই পোস্টিং দিতে হবে। ঠিক সেই নির্দেশকেই এবার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বাস্থ্য ভবন পৌঁছল ডিভিশন বেঞ্চে।
রাজ্য সরকারের দাবি, “পোস্টিং প্রক্রিয়া কেবল মেধার উপর নির্ভরশীল নয়, অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে কোথায় কাকে পাঠানো হবে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্তে আবারও নতুন আইনি লড়াইয়ের সূচনা হল বলে মনে করছেন আদালত চত্বরের আইনজীবীদের একাংশ। এখন দেখার, ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে বহাল রাখে নাকি নতুন কোনও নির্দেশ সামনে আসে।