শুধু মণ্ডপ ঘোরা নয়, দিনভর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিল পুলিশ। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুরের ভোজন— সবই নিখরচায়। উৎসবের ভিড়ের মধ্যে যাঁরা বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পান বা বেরোতে পারেন না, তাঁদের জন্য এ যেন অন্য এক ‘দুর্গোৎসব’।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজো (Durga Puja) মানেই ভিড়, ভিড় মানেই প্রবল কষ্ট— বিশেষত প্রবীণ মানুষ আর বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য। তবে এবারের চতুর্থীর সকালে এক অন্য দৃশ্যের সাক্ষী রইল কলকাতা (Kolkata)। কেউ হাঁটতে পারেন না, কেউ চলাফেরায় অক্ষম, কেউ আবার জীবনের সায়াহ্নে— এঁদের সকলের হাত ধরেই উৎসবের আনন্দ পৌঁছে দিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)।
শুক্রবার শহরের একাধিক বড় পুজো মণ্ডপে বিশেষ বাসে করে ঘোরানো হল ৪২০ জন প্রবীণ মানুষ এবং ২৩০ জন বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে-মেয়েকে (Special Parikrama on Chaturthi)। পুলিশের তত্ত্বাবধানে ২২টি বাস সকাল থেকেই ছুটল একেকটি মণ্ডপ থেকে আরেকটিতে। সঙ্গী রইলেন পুলিশকর্মীরা। প্রতিটি বাসে উঠেই সিপি মনোজ ভার্মা নিজে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন, হাতে তুলে দিলেন ফুল। সেই মুহূর্তে কারও চোখে জল, কারও মুখে শুধুই হাসি।
মনোজ ভার্মা বললেন, “আমরা সারা বছরই ওদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু দুর্গাপুজো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই প্রতি বছরই এই বিশেষ পরিক্রমার আয়োজন করা হয়। এ বছরও আমাদের এই পরিবারকে নিয়ে শহরের সেরা পুজোগুলি দেখানো হল।”
শুধু মণ্ডপ ঘোরা নয়, দিনভর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিল পুলিশ। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুরের ভোজন— সবই নিখরচায়। উৎসবের ভিড়ের মধ্যে যাঁরা বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পান বা বেরোতে পারেন না, তাঁদের জন্য এ যেন অন্য এক ‘দুর্গোৎসব’।
প্রবীণ এক যাত্রী বললেন, “এ বয়সে আর মণ্ডপে গিয়ে ঠেলাঠেলি করার ক্ষমতা নেই। আজ পুলিশ আমাদের যেভাবে নিয়ে ঘোরাল, মনে হল আবার যৌবনে ফিরে গেলাম।” আরেকজন বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীর কথায়, “মা দুর্গার কাছে এবার একটাই প্রার্থনা, যেন প্রতিবছর পুলিশ আমাদের এভাবে ঘোরায়।”
শহরের আনাচে-কানাচে যখন পুজো-প্যান্ডেলের আলো, কোলাহল, তখন একদল মানুষ চতুর্থীর দিনে আনন্দ পেলেন অন্যভাবে— পুলিশের হাত ধরে।