আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন এই আখতার আলিই।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় (RG Kar Corruption Case) হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির (Akhtar Ali) ) আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
এর আগে গত ডিসেম্বরে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে মামলার শুনানিতে সিবিআই জানায়, এই মুহূর্তে আখতার আলিকে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই বক্তব্যের পর ১৯ ডিসেম্বর তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল আদালত। এদিন সেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নিল আদালত।
প্রসঙ্গত, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন এই আখতার আলিই। সময়ের চক্রে সেই অভিযোগকারীর নামই জড়িয়ে গেল দুর্নীতির মামলার চার্জশিটে।
সম্প্রতি আরজি করের আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। সেই চার্জশিটেই প্রথম বার যুক্ত হয়েছে আখতার আলির নাম। তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত করা হয়েছে শশীকান্ত চন্দক নামের আরও এক ব্যক্তিকে। এর আগে এই মামলায় সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা, আফসার আলি খান ও আশিস পাণ্ডের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, চার্জশিটে নাম থাকা সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই আইপিসির ৪৭১ ধারা যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে সিবিআই। অভিযোগ, নথি জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আরজি করের আর্থিক অনিয়ম চলছিল। চার্জশিটে আইপিসির ১২০বি, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনের ৭ ও ১৩ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় এক দশক ধরেই এই আর্থিক অনিয়মের শিকড় ছড়িয়ে ছিল।
মামলায় নাম জড়ানোর পরই আইনি পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আখতার। শেষ পর্যন্ত আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। এবার আদালত অন্তর্বর্তী জামিন খারিজ করায় আখতার আলি উচ্চ আদালতে যান কিনা, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৩ সালে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন আখতার। অভিযোগের পরই তাঁকে আরজি কর থেকে বদলি করে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে কিছু দিন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) হিসেবে কাজ করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁকে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে ডেপুটি সুপার হিসেবে বদলি করা হয়।