Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

বাঘিনি জিনাতের পর এবার লালমাটির জঙ্গলে বাঘ-নেকড়ের ডাক! সুরুলিয়া চিড়িয়াখানায় বাড়ছে আকর্ষণ

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ঘুরে বাংলায় ঢুকে পড়েছিল বাঘিনি জিনাত। টানা ১২ দিন ধরে জঙ্গলমহলের বনবাদাড়ে দাপিয়ে হাঁড় কাঁপানো শীতেও বনকর্তাদের কালঘাম ছুটিয়ে ছিল সে।

বাঘিনি জিনাতের পর এবার লালমাটির জঙ্গলে বাঘ-নেকড়ের ডাক! সুরুলিয়া চিড়িয়াখানায় বাড়ছে আকর্ষণ

ছবি-সংগৃহীত।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 4 February 2026 14:32

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ঘুরে বাংলায় ঢুকে পড়েছিল বাঘিনি জিনাত। টানা ১২ দিন ধরে জঙ্গলমহলের বনবাদাড়ে দাপিয়ে হাঁড় কাঁপানো শীতেও বনকর্তাদের কালঘাম ছুটিয়ে ছিল সে। পরে ঘুম পাড়ানি গুলিতে জব্দ করে জিনাতকে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে (টাইগার রিজ়ার্ভ, সংক্ষেপে বা এসটিআর) ফেরৎ পাঠানো হয়েছিল।

তবে ১৪ মাসের ব্যবধানে এবার জঙ্গল মহলে স্থায়ী হতে চলেছে হালুম গর্জন। তবে জিনাত নয়। এবার জঙ্গলমহলের নতুন অতিথি হতে চলেছে একজোড়া চিতাবাঘ (Leopard) এবং একটি ধূসর নেকড়ে (Gray wolf)!

পুরুলিয়ার সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানায় (Surulia Mini Zoo,  Purulia) শিগগিরই বাড়তে চলেছে বন্যপ্রাণের বৈচিত্র্য। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটির একটি প্রতিনিধিদল দু’দিন ধরে সুরুলিয়া চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছে (Forest Department)।

চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, চিতাবাঘ রাখার জন্য নির্ধারিত খাঁচা ও প্রস্তাবিত এনক্লোজারের গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত দিকগুলি বিশেষ ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে জু অথরিটির তরফে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে খাঁচার উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধি, প্রাণীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পর্যাপ্ত সবুজায়ন, পানীয় জলের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পরিবর্তনগুলি শুধু প্রাণীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে না, দর্শনার্থীদের সুরক্ষার দিকটিও আরও মজবুত করবে। সুরুলিয়া চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জু অথরিটির সমস্ত নির্দেশিকা ও বিধিনিষেধ মেনেই দ্রুত প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হবে। সবুজে ঘেরা স্বাভাবিক পরিবেশে বন্যপ্রাণীদের রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানায় ১৩টি ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৫ হাজার পর্যটক এখানে ঘুরে দেখতে আসেন। নতুন করে চিতাবাঘ ও ধূসর নেকড়ে যুক্ত হলে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ যে বহুগুণ বাড়বে, তা নিয়ে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মতে, এতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের এক কর্তার কথায়, “নতুন বন্যপ্রাণী এলে শুধু চিড়িয়াখানাই নয়, গোটা অঞ্চলের পর্যটন মানচিত্রে সুরুলিয়ার গুরুত্ব বাড়বে।” পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এই উদ্যোগ পুরুলিয়া জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশা প্রশাসনের।

সবুজ পাহাড় আর লালমাটির প্রাকৃতিক আবহে চিতাবাঘ ও ধূসর নেকড়ের উপস্থিতি—পুরুলিয়ার সুরুলিয়া চিড়িয়াখানার আকর্ষণ যে আরও বাড়াবে তা বলাইবাহুল্য।


```