এর আগে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সুপ্রিম কোর্টে নোট জমা দেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ও তৃণমূল সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নজিরবিহীন ভাবে এদিন আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতেই উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই উপস্থিতি ও সরাসরি সওয়াল গোটা মামলাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইন মহল।
আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শ্যাম দিওয়ান নির্বাচন কমিশনের ‘তাড়াহুড়ো’ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, কমিশনের তরফে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হাতে রয়েছে মাত্র চার দিন। এখনও প্রায় ৬৩ লক্ষ শুনানি বাকি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের শুনানি করতে হবে—যা বাস্তবে কার্যত অসম্ভব বলেই দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য, এই অযৌক্তিক সময়সীমার জেরে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। বহু জায়গায় মানুষকে টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কাজকর্ম, রোজগার ফেলে শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ভোটাররা। এই পরিস্থিতি ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও আদালতে জানানো হয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর নামে এমন এক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার ফলে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এখন নজর শীর্ষ আদালতের দিকে—এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।