এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে যুক্তি দেবেন। জাতীয় রাজনীতিতে এই ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন হলেও, বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 4 February 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে এসআইআর (West Bengal SIR) নিয়ে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার শীর্ষ আদালতের দিকে নজর গোটা দেশের। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আজ রাজ্যের দায়ের করা এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে। এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেই সওয়াল করতে পারেন - এই সম্ভাবনা ঘিরে সকাল থেকেই তীব্র জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে যুক্তি দেবেন। জাতীয় রাজনীতিতে এই ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন হলেও, বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বরং তাঁর কটাক্ষ, ভোটে হারার পর কিছু তো করতেই হবে, তাই এই উদ্যোগ।
এসআইআর শুনানির দিন মুখ্যমন্ত্রী আইনজীবীদের মতো কালো রোব পরে আদালতে হাজির হতে পারেন - এই সম্ভাবনার কথা প্রথমে প্রকাশ করেছিল ‘দ্য ওয়াল’। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল চরমে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর এই কাজই করতে হতে পারে ভেবেই হয়তো এখন থেকেই প্র্যাকটিস শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির আরও খোঁচা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গে অনেক পরিচয়ে পরিচিত - কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক। তবে এখন তিনি ধরে নিয়েছেন, এপ্রিলের পর সরকার আর থাকবে না, তাই বিকল্প পথ খুঁজতেই ফাইল হাতে সুপ্রিম কোর্টে যাতায়াত শুরু করেছেন বলে তাঁর ব্যঙ্গ।
এসআইআর ইস্যুতে দিল্লি সফরের সময় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকও বিতর্কে জড়িয়েছে। ওই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) এবং এসআইআর আবহে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কয়েক জন সদস্য। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আলোচনা একেবারেই ইতিবাচক হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কমিশনার তাঁকে হুমকি দিয়েছেন এবং দুর্ব্যবহার করেছেন, এমনকি চিৎকারও করেছেন।
এই অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর যুক্তি, যদি বৈঠকে সত্যিই খারাপ আচরণ হয়ে থাকে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী দেড় ঘণ্টা সেখানে কী করছিলেন? তাঁর কটাক্ষ, ক’কাপ চা খাওয়া হয়েছে, সেটাও পরিষ্কার করা উচিত। সত্যিই অসহযোগিতা হলে সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপের দাবি, গোটা বিষয়টি নাটক ছাড়া কিছু নয়। খবর হবে না বুঝে নিয়ে শেষে টেবিল চাপড়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে (ECI) একাধিকবার চিঠি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, কোনও চিঠিরই উত্তর মেলেনি। এর মধ্যেই ২ তারিখ তাঁদের বৈঠক হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীরা। পরে দাবি করা হয়, কোনও সদুত্তর তো মেলেইনি, বরং তাঁদের অপমান করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতেই এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল যে এই ইস্যুতে দিল্লির পথে হাঁটবে, তা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল ‘দ্য ওয়াল’। আজকের শুনানিতে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন, তা হলে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় যুক্ত হবে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, মুখ্যমন্ত্রীর নামে শীর্ষ আদালতের তরফে বিশেষ ‘গেট পাস’ ইস্যু করা হয়েছে। সেই ছাড়পত্রের জোরেই তাঁর গাড়ি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে ঢোকে এবং সেখান থেকে লিফটে করে তিনি পৌঁছে যান শুনানি কক্ষে।