মামলার শুনানিতে তিনি নিজেই সওয়াল করতে পারেন, এমন জল্পনার মাঝেই আগেভাগে শীর্ষ আদালতে পৌঁছে যান তিনি। শুনানির আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের নজরে আনার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 4 February 2026 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর ইস্যুতে (West Bengal SIR) সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বুধবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আগে একাধিক দাবি জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের তরফে দায়ের করা মামলার শুনানিতে তিনি নিজেই সওয়াল করতে পারেন, এমন জল্পনার মাঝেই আগেভাগে শীর্ষ আদালতে পৌঁছে যান তিনি। শুনানির আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের নজরে আনার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ বসেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, কয়েকটি মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রীর মামলার শুনানি হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে এসআইআর সংক্রান্ত যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা তালিকার ৩৭ নম্বরে রয়েছে। আদালতের ডিসপ্লে বোর্ড অনুযায়ী প্রথমে ১ থেকে ৫ নম্বর মামলার শুনানি হবে। এরপর ৩৫ নম্বর মামলা, তারপর ৬ থেকে ১৬ নম্বর মামলার শুনানি শেষ করে ৩৬ ও ৩৭ নম্বর মামলার শুনানি শুরু হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩৬ নম্বর মামলাটি এসআইআর সংক্রান্ত জয় গোস্বামীর দায়ের করা মামলা এবং তার পরেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন।
শুনানি শুরু হওয়ার অনেক আগেই আদালতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) যেন ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর যুক্তি, ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভোটার তালিকা নিয়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের নজরে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তথ্যে সামান্য অসঙ্গতি বা ভুলের কারণে যাতে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নামের বানান সংক্রান্ত সমস্যার জেরে যে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।
ফর্ম ৭ (Form 7) নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে ৭ নম্বর ফর্ম জমা পড়েছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি গণহারে এই ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে নিয়োজিত মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। শুনানির সময় তিনি আইনজীবীদের মতো কালো রোব পরে আদালতে হাজির হতে পারেন - এমন সম্ভাবনার কথাও রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হয়েছে। সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয় কি না, তা এখন সময়ই বলবে।
সব মিলিয়ে এসআইআর মামলা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি লড়াই রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।