তাঁর অভিযোগ, বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যে ভাষার অজুহাতে বাঙালিদের নিশানা করা হচ্ছে, যা গভীর বাঙালি-বিরোধী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বারবার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের (Bengali Migrant) উপর আক্রমণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে রাজ্যসভায় (Parliament) সরব হল তৃণমূল। বুধবার জিরো আওয়ারে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam) অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই ভিন্রাজ্যে বহু বাঙালি নিগৃহীত হচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যসভা কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, শুরু হয় তৃণমূল ও বিজেপির তীব্র বাক্বিতণ্ডা।
সামিরুল বলেন, “আজ সংসদে আমি আবার বাংলার পরিযায়ী মানুষের দুর্দশার কথা তুলছি। শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই বহু মানুষ হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সোনালি বিবির মর্মান্তিক ঘটনাও তার উদাহরণ— এক জন ভারতীয় নাগরিক হয়েও তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”
তাঁর অভিযোগ, বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যে ভাষার অজুহাতে বাঙালিদের নিশানা করা হচ্ছে, যা গভীর বাঙালি-বিরোধী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।
এই বক্তব্যের মাঝেই শাসক দলের বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattachariya)। তাঁকে সঙ্গ দেন আরও কয়েক জন বিজেপি সাংসদ। হট্টগোলের মধ্যেই সামিরুল শমীকের উদ্দেশে বলেন, “শমীকদা, আমি বাংলার মানুষের অধিকারের জন্য কথা বলছি। দয়া করে বাধা দেবেন না। এই বেইমান বিজেপিকে বাংলার মানুষ দেখছে।” বিজেপি সাংসদদের প্রতিবাদের মধ্যেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
বক্তৃতার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সামিরুল বলেন, “বাংলা থেকে যাওয়া বিজেপি সাংসদেরাও আমাকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ সব দেখছে। ২০২৬ সালে তার জবাবদিহি দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মর্যাদা ও অধিকারের লড়াই কোনও দিন থামবে না।”
অন্য দিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, জিরো আওয়ারে শমীক ভট্টাচার্য যখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন তৃণমূল সাংসদেরাই চেঁচামেচি করে বারবার তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিজেপির বক্তব্য, শমীকও বাংলার মানুষের স্বার্থেই কথা বলছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্প থেকে কী ভাবে বাংলার মানুষকে রাজ্য সরকার বঞ্চিত করছে, তা তুলে ধরাই ছিল তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য। সেই সময় তৃণমূল কেন বাধা দিল— সেই প্রশ্নও তুলেছে বিজেপি।