অরিজিতের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, “যদি আমি প্রতিবাদ না করতাম, ওই বয়স্ক মানুষটা হয়তো বাঁচতেন না। কিন্তু তার জন্য আমার রক্ত ঝরবে? আর পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নেবে না?”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 5 July 2025 10:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিড়ে ঠাসা লোকাল ট্রেনের মধ্যে অস্ত্রের দাপট! প্রতিবাদ করায় চপারের কোপ খেলেন বছর ছাব্বিশের যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধেয় রানাঘাট লোকালে (Ranaghar Locals)। ঘটনার জেরে যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
জানা গিয়েছে, কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা অরিজিৎ বিশ্বাস শুক্রবার সন্ধে ৬টা নাগাদ কাঁচরাপাড়া স্টেশন থেকে রানাঘাট লোকালের প্রথম কামরায় উঠেছিলেন। বারাকপুরমুখী (Barrackpore ) ট্রেনটি কাঁকিনাড়া পৌঁছতেই উঠে পড়ে একদল যুবক। প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র। কামরার মধ্যে দাঁড়িয়েই শুরু হয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তারা প্রকাশ্যেই অস্ত্র বের করে ‘দাদাগিরি’ শুরু করে। লাফঝাঁপ, গালিগালাজে আতঙ্কে সিঁটিয়ে যান যাত্রীরা।
সেই সময় এক বয়স্ক দম্পতি তাঁদের বাধা দেন। অভিযোগ, তখনই ওই যুবকেরা উল্টে প্রবল মারধর শুরু করে বৃদ্ধকে। স্ত্রীকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা মারে তারা। পরিস্থিতি দেখে প্রতিবাদে মুখ খোলেন অরিজিৎ ও আরও কয়েকজন।
বারাকপুরে ট্রেন দাঁড়াতেই এক দুষ্কৃতী, যার পরনে ছিল কালো ফতুয়া ও লুঙ্গি, আচমকা চপার বার করে কোপ মারে অরিজিৎ-এর বাঁ হাতে। রক্তাক্ত অবস্থায় ট্রেন থেকে নেমে পড়েন তিনি। দ্রুত যান বারাকপুর স্টেশনের রেল পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে। কিন্তু সেখানেও ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
অরিজিতের অভিযোগ, রেল পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি। দীর্ঘক্ষণ ধর্নার পর দমদম জিআরপি ওসি-র হস্তক্ষেপে এফআইআর নেওয়া হয়। যদিও রাত হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে অভিযোগপত্রের কপি দেওয়া হয়নি।

পরে অরিজিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাতে চারটি সেলাই পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রেল যাত্রীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অরিজিৎ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। সাধারণ যুবক হিসেবে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। অরিজিতের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, “যদি আমি প্রতিবাদ না করতাম, ওই বয়স্ক মানুষটা হয়তো বাঁচতেন না। কিন্তু তার জন্য আমার রক্ত ঝরবে? আর পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নেবে না?” এ ব্যাপারে রেল পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে ঘটনার জেরে আতঙ্কিত যাত্রীরা।