ব্যবসায়ীরা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, হিমঘরের আলু বাছাই করতে হয়। ছোট আলুর দাম পাওয়া যায় না।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলুর দাম নিয়ে চাষিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ। হিমঘরে রাখা আলুর জন্য কেজি প্রতি মাত্র ৬-৭ টাকা পাচ্ছেন চাষিরা। অথচ খোলা বাজারে সেই আলুই বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ১৯ টাকা দরে। ব্যাপক লাভ করছেন ফড়েরা ও বড় ব্যবসায়ীরা, কিন্তু চাষিরা পড়ছেন চরম আর্থিক সংকটে।
চাষিরা জানান, এই সময় আলু বিক্রির টাকাতেই তাঁরা ধান চাষের খরচ চালান। সার, কীটনাশক, শ্রমিকদের মজুরি—সবকিছু ওই বিক্রির টাকার উপর নির্ভর করে। অথচ হিমঘরে মজুত রাখা আলুর দাম এতটাই কম যে, খরচও উঠছে না।
বোহারের আলু চাষি শেখ মহম্মদ ইউসুফ জানান, “আমরা হিমঘরে আলু রেখে দাম বাড়ার অপেক্ষা করেছিলাম। এখন দেখি ফড়েরা কেজি প্রতি ১৭-১৮ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ আমরা পাচ্ছি ৭ টাকাও না। হিমঘরে রেখে কী লাভ হল?”
মেমারি-২ ব্লকের কানপুর গ্রামের চাষি দেবপ্রসাদ কর্মকার বলেন, “এই দাম থাকলে আমাদের খরচই উঠবে না। পুজোর পর দাম বাড়বে ঠিকই, কিন্তু তখন তো আমাদের আলু থাকবে না। লাভ করবে ব্যবসায়ীরাই।”
কৃষি দফতর সূত্রে খবর, গত মরসুমে পূর্ব বর্ধমানে প্রচুর আলু উৎপাদন হয়েছিল। কিছু এলাকায় বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ জায়গাতেই ফলন ভাল ছিল। অনেক ক্ষুদ্র চাষি ভাল দাম পাওয়ার আশায় আলু হিমঘরে মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু এখন সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহা বলেন, “চাষিরা যদি ৬-৭ টাকা পান আর বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭-১৮ টাকায়, সেটা মানা যায় না। প্রয়োজনে প্রশাসন অভিযান চালাবে।”
ব্যবসায়ীরা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, হিমঘরের আলু বাছাই করতে হয়। ছোট আলুর দাম পাওয়া যায় না। বড়, সুন্দর আলু বাজারে গেলে তবেই দাম বেশি ওঠে। কিন্তু চাষিরা সেই পরিকাঠামো পান না।