পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গত বছর ভিড় সামলাতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর (Durga Pujo) থিম হিসেবে 'অপারেশন সিঁদুর' (Operation Sindoor) ঘোষণার পরেই শুরু বিতর্ক। শহরের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে (Santosh Mitra Square Puja) পুলিশের পরপর তিনবার নোটিস ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পুজো কমিটির মুখ্য উদ্যোক্তা ও বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, “এই থিম ঘোষণার পরেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের পুজোকে নিশানা করা হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে এবারে আমরা পুজো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।”
সজলবাবুর দাবি, “লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে ভারতীয় সেনার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার বার্তা দিতে চেয়েছি আমরা। সেই থিমেই সাজছে আমাদের মণ্ডপ। অথচ, থিম ঘোষণার পর থেকেই পুলিশের (Kolkata Police) তরফে একের পর এক বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন? শুধু আমাদের পুজোতেই কি ভিড় হয়? শুধু কি আমাদের পুজোতেই ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের সমস্যা হয়?”
মুচিপাড়া থানার তরফে পাঠানো নোটিসে লাইট ও সাউন্ড শো বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তৃতীয়বারের জন্য এমন নোটিস পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সজল। তাঁর সোজাসাপটা অভিযোগ, “অপারেশন সিঁদুর নামটা শুনেই যাঁদের ‘সিঁদুরে অ্যালার্জি’, তাঁরাই এখন নির্দেশ পাঠাচ্ছেন। এই রাজনীতির মধ্যে আমাদের পুজোকে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তবে লালবাজার সূত্রে একেবারেই উলটো দাবি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গত বছর ভিড় সামলাতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগে থেকেই নোটিস পাঠিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ থিমের জন্য আলাদা করে কোনও নোটিস নয়, এটি নিছকই ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে।
লালবাজারের আরও দাবি, ১৪ জুন প্রথমবার পুজো কমিটিকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার কোনও জবাব না আসায় ফের নোটিস পাঠানো হয়েছে।”
সব মিলিয়ে পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে শহর কলকাতায় শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শেষ পর্যন্ত ঠাকুর দেখা নাকি রাজনীতি, এবারের পুজোয় কোনটা মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় তা নিয়ে কৌতূহলও রয়েছে জনমানসে।