মমতার অভিযোগ, “১৪ বছর ধরে লড়ছি, বারবার টিম গিয়েছে। আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি, নীতি আয়োগের বৈঠকেও বলেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। অসমে বন্যার টাকা মেলে, বাংলায় শুধু বন্যা মেলে!”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 18:13
মমতার অভিযোগ, “১৪ বছর ধরে লড়ছি, বারবার টিম গিয়েছে। আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি, নীতি আয়োগের বৈঠকেও বলেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। অসমে বন্যার টাকা মেলে, বাংলায় শুধু বন্যা মেলে! ভোটের অপর কাজ জনগণের সেবা করা। সেবা না করে জনগণকে পরিষেবা না দিয়ে নিজেদের সেবা করছে।”
কটাক্ষের সুরে এও বলেন, "জল ছেড়ে দিয়ে মানুষকে ভাসিয়ে দেয়, কিন্তু একটা কাপড় কেনার টাকাও দেয় না। সবটা আমাদেরকেই করতে হয়।"
ডিভিসির সূত্র জানাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টির জেরে পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধারে জলস্তর বিপজ্জনক সীমায় পৌঁছে যাওয়ায় জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পাঞ্চেত থেকে ছাড়া হয়েছে ৩৬ হাজার কিউসেক, মাইথন থেকে আরও ৯ হাজার কিউসেক জল। এই জল প্রবেশ করছে দুর্গাপুর ব্যারাজ হয়ে দামোদর নদের মাধ্যমে হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানে।
ফলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে খানাকুল, আরামবাগ, আমতা, উদয়নারায়ণপুরের মতো নিচু এলাকাগুলিতে। প্রশাসনের আশঙ্কা, যদি দুর্গাপুর ব্যারাজে জলচাপ আরও বাড়ে, তা হলে সেখান থেকেও জল ছাড়তে হতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ১০ জেলার প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ডিএম, এসপি, বিডিও ও আইসিদের নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি নিচু এলাকায় দ্রুত ত্রাণ শিবির খোলার নির্দেশও দিয়েছেন। এদিনের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট ১০টি জেলায় তিনজন করে মুখ্যসচিব পদ মর্যাদার অফিসারকে পাঠিয়ে আগামী সাতদিন জেলা ভিত্তিক পরিস্থিতির মনিটরিং করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এখন নিয়মিত নজরদারি করছি। ত্রাণ শিবির যেন চালু থাকে যতক্ষণ না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। প্লাবিত এলাকায় ও ত্রাণ শিবিরে যাতে অ্যান্টি ভেনাম ওষুধ মজুত থাকে, সেদিকেও নজর দিতে বলেছি।”
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কর্তাদেরও সজাগ থাকার আহ্বান জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "মানুষ সমস্যায় পড়লেও হয়তো মুখ ফুটে না বলতে পারে, কিন্তু সরকারের অঙ্গ হিসেবে আপনাদের তাঁদের কাছে পৌঁছতে হবে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, একজনও যেন এই দুর্যোগে সরকারি সুবিধা থেক বঞ্চিত না হয়।"
এ ব্যাপারে মন্ত্রী, বিধায়কদেরও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, "মন্ত্রীদেরও বল যারা যে যে জেলায় অন্যান্য বা দায়িত্ব পালন করেন তাXরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসক পুলিশকে সহযোগিতা করুন। আমি বেশি পেলাম না ও বেশি পেলেও এসব দেখার সময় এটা নয়। মানুষকে সাহায্য করতে হবে, এটাই শেষ কথা।"
রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "মনে রাখবেন ডিভিসির ছাড়া জলের কারণেই এই বন্যা পরিস্থিতি। আমাদের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টায় বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ করবেন। এই সময় সকলের কাছে আর্জি, দয়া করে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।"