বর্ষায় কেন দুর্ভোগে নাকাল হতে হয় শহরবাসীকে? জবাবে বড় দাবি কলকাতার মেয়রের।

ফিরহাদ হাকিম।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে (Heavy Rainfall) বিপর্যস্ত শহরের ((Kolkata) বহু রাস্তা। প্রশ্ন উঠছে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে। যদিও কলকাতার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) দাবি, শহরের নিকাশি ব্যবস্থা (Waterlogging) আগের চেয়ে অনেক উন্নত। এখন বৃষ্টি হলেও জল দাঁড়াচ্ছে না, অতিবৃষ্টিতেও দ্রুত জল সরছে।
এ প্রসঙ্গে পাতিপুকুরের উদাহরণ টেনেছেন কলকাতার মেয়র। বর্ষার মরশুম মানেই পাতিপুকুরের আন্ডারপাসে এক কোমর জল, এবারে সেই চেনা ছবি দেখা যায়নি বলে দাবি করে ফিরহাদ বলেন, "পাতিপুকুরে এবার সেভাবে জল জমেনি। ওখান থেকে প্রচুর পলি বের করা হয়েছে। শুধু পাতিপুকুর নয় আমরা সারা কলকাতাতেই ডিসিলটিং করেছি। সেই কারণে এখন ২০ মিলিমিটার প্রতি ঘন্টায় বৃষ্টি হলেও জল সরে যাচ্ছে।"
শহরের কিছু এলাকায় জল জমা প্রসঙ্গে নিকাশির পরিবর্তে অতিবৃষ্টিকেই দায়ী করেছেন কলকাতার মেয়র। ফিরহাদ বলেন, "২০০-৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যেই শহর জলমুক্ত হচ্ছে।”
তবে বেহালা, ঠাকুরপুকুরের মতো সম্প্রসারিত এলাকাগুলির পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি বলে স্বীকার করেন তিনি। “এই এলাকাগুলিতেও কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আর সমস্যা থাকবে না,” আশ্বাস ফিরহাদের।
তবে গত ক'দিনের ভারী বৃষ্টিতে শহরের একাধিক রাস্তার খোয়া উঠে যাওয়া, গর্ত তৈরি হওয়া ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। বৃষ্টি নামলেই কেন দুর্ভোগে নাকাল হতে হয় শহরবাসীকে? এ ব্যাপারে মেয়রের দাবি “কলকাতার রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ নয়। আমরা যদি তিন-চার দিনের ড্রাই স্পেল পাই, তাহলে সমস্তটাই সারিয়ে ফেলা যাবে।”
রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে সাফাই দিয়ে ফিরহাদ বলেন, “কলকাতার রাস্তার নীচে গঙ্গার মাটি রয়েছে। বর্ষাকালে সেই মাটি দুর্বল হয়ে যায়, রাস্তার তলা বসে যায়। ফলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা নতুন কিছু নয়।”
তিনি আরও জানান, রাস্তার নিচে প্রচুর ইউটিলিটি লাইন রয়েছে, তাই সব জায়গায় ঢালাই দেওয়া সম্ভব নয়। সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দেন, সম্প্রতি কয়েক দিনে এক হাজার মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে শহরে।
খিদিরপুরে মেট্রো টানেল বোরিং নিয়ে আশঙ্কা ঘিরে ফের উঠছে প্রশ্ন। এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, “এটা আমাদের বিষয় নয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষকেই দেখতে হবে। ওদের ইঞ্জিনিয়ারদের আরও সতর্ক হতে হবে, কারণ ওই এলাকায় বহু পুরনো ও হেরিটেজ বাড়ি রয়েছে।” বউবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি নিয়ে বলেন, “মেট্রো রিবিল্ডিং-এর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছি।” এছাড়াও ফিরহাদ জানান, পাটুলির ভাসমান বাজার পুজোর পরে নতুন রূপে ফিরে আসবে। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি।