গত শনিবার খেজুরি থানার ভাঙনমারি এলাকায় মেলা দেখতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল সুজিৎ দাস ও সুধীর পাইকের। পুলিশের বক্তব্য, মেলায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শনিবার খেজুরি থানার ভাঙনমারি এলাকায় মেলা (Kejuri Mela) দেখতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল সুজিৎ দাস ও সুধীর পাইকের। পুলিশের বক্তব্য, মেলায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেছিলেন, 'এটা রাজনৈতিক খুন। পরিকল্পিতভাবেই ওই দু'জনকে খুন করা হয়েছে'।
শুভেন্দুর অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছিল শাসকদল। তবে বিরোধী দলনেতার সুরেই 'পরিকল্পিত খুনে'র অভিযোগ এনে মৃতদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের আর্জি নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন মৃতর পরিজনেরা।
মৃত দুই যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, “শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে এমন হবে না। পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।” তাঁদের আরও অভিযোগ, “স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একাংশের চাপেই পুলিশ সত্য গোপন করছে।”
ঘটনার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শাসক-বিরোধী তরজাও চরমে। বিরোধীদের দাবি, “এই ঘটনায় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।” অন্যদিকে শাসক শিবিরের পাল্টা বক্তব্য, “ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ নিজের কাজ করছে।”
পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, “মেলার মাঠে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে হাত লাগাতেই দুই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।”
তবে সব বিতর্কের মাঝেই পরিবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের আবেদন জানিয়েছে হাইকোর্টে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। এখন দেখার, এই মামলায় কী নির্দেশ দেয় আদালত এবং আদৌ নতুন কোনও মোড় নেয় কি না তদন্ত।