বনভূমি বাঁচলে বাঁচে বন্যপ্রাণ। আর প্রকৃতি ফিরলে ফেরে ভারসাম্য। ঝাড়গ্রামের জঙ্গল হয়তো নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতির ক্ষতি করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর যত্ন পেলে উদার হয়ে সব ফিরিয়ে দেয়।

এআই ছবি।
শেষ আপডেট: 14 July 2025 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় ফাঁকা হতে বসেছিল ঝাড়গ্রামের বনাঞ্চল (JhargramForest)। চোরা কাঠুরেদের দাপট, রাজনৈতিক ডামাডোল ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল প্রকৃতি। আজ, এক দশক পেরিয়ে, সেই জঙ্গলই আবার জীবন ফিরে পাচ্ছে (WildlifeReturn), ফিরে আসছে হাতি, নেকড়ে, হরিণের মতো বন্যপ্রাণ (ElephantPopulation)।
বন দফতরের হিসাব বলছে, দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায়, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ২০১৭ সালে হাতির সংখ্যা ছিল ১৯৪টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২২৪। শুধু হাতিই নয়, নেকড়ে, চিতল ও নানা ধরনের হরিণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে ঝাড়গ্রামের গভীর জঙ্গলে।
নব্বইয়ের দশকে বনসুরক্ষা কমিটি তৈরি হয়েছিল বনভূমি বাঁচাতে। তবু ২০০৯ নাগাদ জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেই উদ্যোগ থমকে যায়। শালগাছ কাটা চলতেই থাকে। একসময় শালগাছের সংখ্যা কমে গিয়েছিল প্রতি হেক্টরে মাত্র ৫০-১০০-এর মধ্যে।
কিন্তু এখন? বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শালগাছের সংখ্যা হেক্টর প্রতি ছাড়িয়ে গিয়েছে ৪০০! ঝাড়গ্রামের বনাঞ্চলে বর্তমানে রয়েছে দেড় কোটির বেশি শালগাছ। এই ঘন সবুজ আবরণই আবার ডেকে এনেছে হারানো বন্যপ্রাণ।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলছেন, "আমরা শুধুমাত্র গাছ লাগাচ্ছি না, বন্যপ্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করছি। খাবার ও জলের সংস্থান বাড়ানো হচ্ছে।"
গিধনি বনাঞ্চলে পাঁচটি নতুন পুকুর খনন করা হয়েছে। ফল, বাঁশ ও গুল্মজাতীয় গাছ লাগানো হচ্ছে। ফলে নয়াগ্রাম, বেলপাহাড়ী, ভুলাভেদা, শিলদার মতো এলাকায় হরিণ, নেকড়ে এবং অন্যান্য প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত।
হাতি বাড়ছে মানেই কিন্তু সমস্যাহীন নয়। ফসলের ক্ষতি, গ্রামের ওপর হামলা—এসব ঘটছেই। তাই বন দফতর নিয়েছে দুইধরনের পদক্ষেপ: রেঞ্জভিত্তিক হাতি-চালনা দল তৈরি, মানুষের সচেতনতা শিবির। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে হাতির করিডর পরিকল্পনা, খাদ্য সংস্থান ও পানীয় জলের জোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উমর ইমামের কথায়, "হাতির সংখ্যা বাড়া যেমন আশার, তেমনই চ্যালেঞ্জও। তবে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করলে দু'দিকই সামলানো সম্ভব।"
ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, মানিকপাড়া, বেলপাহাড়ী, জামবনি, গোপীবল্লভপুর, হাতিবাড়িয়ার মতো ১১টি রেঞ্জ মিলিয়ে বনভূমির আয়তন এখন প্রায় ৪৩ হাজার ১৫০ হেক্টর। একসময় যা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল, এখন তা ধীরে ধীরে ফিরছে পুরনো অবস্থায়।
বনভূমি বাঁচলে বাঁচে বন্যপ্রাণ। আর প্রকৃতি ফিরলে ফেরে ভারসাম্য। ঝাড়গ্রামের জঙ্গল হয়তো নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতির ক্ষতি করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর যত্ন পেলে উদার হয়ে সব ফিরিয়ে দেয়।