নাবালিকার দিদিমা বলেন, “ছেলেটা ভাল ছিল। তাই ভেবেছিলাম বিয়ে দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে নাতনি। জামাই আরব থেকে ফিরলে তখন অনুষ্ঠান করে সংসার করত। কিন্তু আইন যে এমন কড়া, জানতাম না। বুঝলাম ভুল করেছি।”

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 14 July 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরের বয়স ২০, পাত্রী সবে ১২! লক্ষ্য বিয়ে নয় (ChildMarriage), সৌদি যাত্রা (SaudiArabia)। উদ্দেশ্য ছিল, পাত্রীপক্ষের থেকে পণ আদায় করে বিদেশে পাড়ি জমানো। সব প্রস্তুত। সাজপোশাকে রঙিন হয়ে উঠেছিল আসর। কনে সেজে বসেছিল ষষ্ঠ শ্রেণির এক নাবালিকা। কিন্তু বরের বিড়ির নেশা ও পুলিসের তৎপরতায় রক্ষা পেল এক কোমল প্রাণ। শনিবার রাতে খড়গ্রাম থানার মহিষাড় গ্রামে গোপনে বসা সেই বিয়ের আসরে হানা দেয় পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির তিন সদস্য, বরের বাবা, মা ও পিসিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক বর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিষাড় গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী মা-বাবার অনুপস্থিতিতে দিদিমার কাছে মানুষ। বাবা-মা কর্মসূত্রে থাকেন মুম্বইয়ে, কাজ করেন রাজমিস্ত্রি হিসেবে। নাতনির দায় সেরে ফেলতে মাস দুয়েক আগেই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের কথা পাকাপাকি করেন দিদিমা। দেনা-পাওনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় যে, বিয়ের পরও কন্যা থাকবে শ্বশুরবাড়িতে, পড়াশোনা চালিয়ে যাবে, আর বর সৌদিতে পাড়ি দেবে কাজের সন্ধানে।
শনিবার সন্ধ্যায় হাতেগোনা কিছু আত্মীয়স্বজন নিয়ে বাড়ির মধ্যেই আয়োজন হয় গোপন বিয়ের। কনে তখন সাজে প্রস্তুত, কিন্তু বর তখন গলিতে বিড়ির টানে ব্যস্ত। সেই ফাঁকেই আসে পুলিশ। বর পুলিস দেখে দৌড় দেয়, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের আটক করতে সময় নেয় না পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যায় বিয়ের আয়োজন। নাবালিকাকে পাঠানো হয় হোমে।
রবিবার ধৃত তিনজনকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
নাবালিকার দিদিমা বলেন, “ছেলেটা ভাল ছিল। তাই ভেবেছিলাম বিয়ে দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে নাতনি। জামাই আরব থেকে ফিরলে তখন অনুষ্ঠান করে সংসার করত। কিন্তু আইন যে এমন কড়া, জানতাম না। বুঝলাম ভুল করেছি।”
শিশুবিয়ের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে এমন ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ‘সৌদি ফর্মুলা’র আড়ালে আদৌ কতজন নাবালিকার জীবন অন্ধকারে ঢুকে পড়ছে?