সেই কবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন ‘খ্যাতির বিড়ম্বনা’। আর দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) যেন বিয়ের বিড়ম্বনা! শনিবাসরীয় দুপুরে স্ত্রী রিঙ্কুকে নীচে রেখেই মঞ্চে উঠেছিলেন দিলীপ। কিন্তু কে জানত ‘বিয়ে পর্ব’ এখানেও তাঁর পিছু নেবে। খোদ প্রধানমন্ত্রীও (PM Modi in Kolkata) বিয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে মস্করা করবেন কেই বা জানত!

শেষ আপডেট: 14 March 2026 19:45
সেই কবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন ‘খ্যাতির বিড়ম্বনা’। আর দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) যেন বিয়ের বিড়ম্বনা! শনিবাসরীয় দুপুরে স্ত্রী রিঙ্কুকে নীচে রেখেই মঞ্চে উঠেছিলেন দিলীপ। কিন্তু কে জানত ‘বিয়ে পর্ব’ এখানেও তাঁর পিছু নেবে। খোদ প্রধানমন্ত্রীও (PM Modi in Kolkata) বিয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে মস্করা করবেন কেই বা জানত!
এদিন ব্রিগেডে বক্তৃতার শেষে মঞ্চে থাকা দলের সব নেতাদের সঙ্গেই হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী। কারও কাঁধে দিয়ে কথা বলেন তো কারও পিঠ চাপড়ে দেন। এভাবে দিলীপ ঘোষের সামনে আসতেই, তাঁর বাম বাহু ধরে ফেলেন মোদী। তার পর বলেন, “আরে তুম তো বহুত বদমাশ হো!”
হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী এরকম কথা বলবেন ভাবতেও পারেননি দিলীপ। তাঁর মুখের অভিব্যক্তিটাই ছিল দেখার মতো। তার পর প্রধানমন্ত্রীই বলেন, “হামারে ইহাঁ লোগ শাদি করতে হ্যায় তো খানা খিলাতে হ্যায়। ইয়ে তো মিঠাই ভি নেহি খিলায়া’।
দিলীপ ঘোষের ডান দিকে ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো আর বাম দিকে দলের রাজ্য নেতা মনোজ পাণ্ডে। প্রধানমন্ত্রীর এই টিপ্পনি শুনে তাঁরা হাসতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পিছনে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। তিনিও দৃশ্যত আমোদিত ছিলেন এ ঘটনায়। একমাত্র দিলীপ ঘোষের তখন লাজুক লাজুক মুখ।
এই সময়ে আশপাশের নেতারা বলেন, ‘দিলীপদা এবার দিল্লিতে গেলে পুরো মিঠাইয়ের ডাব্বা নিয়ে যাবেন’। তা শুনে আবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরে আমি তো মিষ্টি খাই না। দিলীপ আমাদের কিছুই খাওয়াল না, তাই বললাম’।
বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) অনেক আগে থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবার বাংলায় জনসভা শুরু করেছেন। গত ৬ মাসে তিনি ৬টি সভা করে ফেলেছেন। কিন্তু এর আগের সভাগুলোতে মঞ্চে দিলীপ ঘোষ আমন্ত্রণ পাননি। এবার পেয়েছেন। মেদিনীপুরের খড়্গপুর সদর আসন থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও আঠারো আনা।
প্রধানমন্ত্রীর টিপ্পনি নিয়ে এদিন দিলীপ ঘোষকে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমি বলেছি, ভোট মিটে গেলে মিষ্টির বাক্স নিয়ে দিল্লিতে যাব”।
বাংলা বিজেপিতে নেতাদের বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান হালফিলে বিশেষ হয়নি। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর বিয়ে করেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। তিনিও বিয়ে নিয়ে বড় কোনও উৎসব অনুষ্ঠান করেননি। তবে দিল্লিতে সতীর্থ সাংসদদের একদিন আমন্ত্রণ করে খাইয়েছেন।
তুলনায় দিলীপ ঘোষের বিয়ে হয়েছে আরও ঘরোয়াভাবে। সেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন ছাড়া কেউ ছিলেন না। স্ত্রী রিঙ্কু অবশ্য কনের সাজে এসেছিলেন। দিলীপ ঘোষও ধুতি পাঞ্জাবিতে সেজে ছিলেন। তার পর রেজিস্ট্রি করে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
দলের এক রাজ্য নেতা এদিন বলেন, “ভোটের পর আমরাও চেপে ধরব দিলীপদাকে। শুধু প্রধানমন্ত্রীকেই মিষ্টি খাওয়ালে চলবে না। আমাদেরও দাওয়াত চাই”।