ব্রিগেডে তাঁর বক্তব্যে গ্যাস-সঙ্কট এবং এসআইআরের প্রসঙ্গ খুব একটা শোনা যায়নি। কিন্তু শাসক দলকে বিঁধতে এতটুকু সময় নষ্ট করেননি নরেন্দ্র মোদী। তার আগে রাজ্য বিজেপির নেতারা একে একে তুলোধনা করেন রাজ্যের শাসক শিবিরকে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 14 March 2026 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব ঠিক থাকলে আগামী সোমবার বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Elections 2026) ঘোষণা হয়ে যাবে। তার আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শনিবার ব্রিগেডে সভা (BJP Brigade Rally) করেছেন তিনি। আর সেখান থেকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) নিশানা করেন তিনি।
ব্রিগেডে তাঁর বক্তব্যে গ্যাস-সঙ্কট এবং এসআইআরের প্রসঙ্গ খুব একটা শোনা যায়নি। কিন্তু শাসক দলকে বিঁধতে এতটুকু সময় নষ্ট করেননি নরেন্দ্র মোদী। তার আগে রাজ্য বিজেপির নেতারা একে একে তুলোধনা করেন রাজ্যের শাসক শিবিরকে।
ব্রিগেড থেকে তৃণমূলকে নিশানা করে নরেন্দ্র মোদীর দশ বাণ
নির্মম সরকারের অন্ত হবেই - মহা জঙ্গলরাজ শেষ হবে, বাংলার নির্মম সরকারের অন্ত হবেই, বলেন মোদী।
চুন চুনকে হিসাব হোগা - যারা অত্যাচার করবে, তাদের ছাড়া হবে না। বেছে বেছে হিসেব হবে।
কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে - তৃণমূল সরকারের যাওয়াটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন।
দুসরে তরফ সবকা হিসাব - বিজেপি ক্ষমতায় অপরাধীদের জায়গা হবে জেল। 'এক তরফ সবকা সাথ, দুসরে তরফ সবকা হিসাব'
বাঙালিকে শেষ করার চেষ্টা - বাংলার জনবিন্যাস বদলে গেছে আর বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দেওয়া হচ্ছে। ওরা হিন্দুদের নিজের ভোট ব্যাঙ্ক মনে করে না।
মানুষকে ঘর পেতে দিচ্ছে না তৃণমূল - সারা দেশ পিএম আবাস যোজনার কথা শুনেছে। কিন্তু এখানে এই প্রকল্পের নাম বদল করে উপভোক্তাদের নামের তালিকাই বদলে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করেছে - এখানকার যুবক-যুবতী ডিগ্রি পাচ্ছেন না, চাকরিও পাচ্ছেন না। তাঁদের ভিনরাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে। তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করেছে।
কাটমানি না পেলে প্রকল্প চালু হতে দেয় না - তৃণমূল সরকারের শুধু টাকা চাই। তাই বাংলায় উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে।
একে একে পকেট ভরেছে - কংগ্রেস, তারপর বাম এবং এখন তৃণমূল সরকার, এরা একে একে এসে নিজেদের পকেট ভরেছে। রাজ্যের উন্নয়নের কাজ তাই পড়েই থেকেছে।
বাড়ি ফিরে এসো সন্ধে নামার আগে - সন্দেশখালি থেকে আরজি কর কাণ্ড, মানুষ ভোলেনি। তাই মেয়েদের বলতে হয়, বাড়ি ফিরে এসো সন্ধে নামার আগে।
এদিকে, ব্রিগেডের সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাপস রায় বললেন, হুমায়ুন কবীর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একই। দু'জনের কথার মধ্যে কোনও অমিল নেই বলেই দাবি তাঁর। তাপসের দাবি, হুমায়ুন এবং মমতা দু'জনেই হিন্দুদের অসম্মান করেন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি তাঁরাই করছেন। সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করছেন মমতা, অভিযোগ তাঁর।
ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলকে জঞ্জালের সঙ্গে তুলনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল নামক জঞ্জালকে বিসর্জন দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কৃষকসম্মান নিধিতে যে ১৩ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখতে পাননি। অন্যদিকে, আলু চাষিদের বঞ্চিত করছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে জমি পড়ে আছে, কিন্তু চাকরি-কারখানা-শিল্প হচ্ছে না। আসলে বাংলার ভাবমূর্তি এমন করেছে তৃণমূল সরকার যে শিল্পপতিরা ভয় আসেন না। বাংলা ছাড়া অন্য রাজ্যে কম সময়ের মধ্যেই শিল্পের কাজ শুরু হয়ে যায়, বলেন দিলীপ ঘোষ।
মিঠুন চক্রবর্তী আবার বোঝাতে চান, বাংলায় একটা অরাজক সরকার চলছে। যে সরকারের আমলে বাংলায় কোনও উন্নতি তো হয়নি, গোটা বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড উনি ভেঙে দেওয়া হয়েছে স্রেফ নিজের রাজনীতির জন্য। তৃণমূল টিকে রয়েছে পুলিশের ভরসায়। তাঁর হুঁশিয়ারি - পুলিশ একটু নিরপেক্ষ থাকুক, ৩০ সেকেন্ডে তৃণমূলের খেলা শেষ করে দেব।
সবমিলিয়ে শনিবারের বিজেপির ব্রিগেড রাজ্যের ভোট ঘোষণার আগে রাজনৈতিক পারদ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।